৬ ফুট লম্বা, গলায় মুণ্ডমালা, পায়ের তলায় শিব! বর্ধমানের কঙ্কালেশ্বরী কালীর গায়ে কাঁটা দেওয়া রহস্য জানেন কি?

বর্ধমানের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী দেবী মূর্তিটি নিছক আর পাঁচটা কালী প্রতিমার মতো নয়, এর নেপথ্য রয়েছে এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর ইতিহাস। দূর থেকে দেখলে এটিকে সাধারণ কালীর মূর্তি বলে মনে হলেও, কাছে গেলে এর নিখুঁত কারুশিল্প দেখে চোখ কপালে উঠবে। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার এই দেবীমূর্তিটি কালো ব্যাসাল্ট পাথরের ওপর অত্যন্ত নিপুণভাবে খোদাই করা হয়েছে। মূর্তির প্রতি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মানবদেহের শিরা, উপশিরা এবং ধমনীর নিখুঁত анатомическая বা কঙ্কালরূপ এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দেখলে মনে হবে পাথরের বুকে কোনো জীবন্ত কঙ্কাল মূর্তি খোদাই করা আছে। অষ্টভুজা এই চামুন্ডা রূপী দেবীর মাথার ওপরে রয়েছে হাতির অবয়ব, গলায় ঝুলছে নরমুণ্ডমালা, উচিয়ে ধরা ডান হাতে রয়েছে ত্রিশূল এবং পায়ের ঠিক তলায় শায়িত অবস্থায় রয়েছেন দেবাদিদেব মহাদেব।
মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই মন্দিরটির বিশেষত্ব হলো এর নয়টি চূড়া, যা সম্পূর্ণভাবে সুদৃশ্য টেরাকোটার নান্দনিক কারুকার্যে তৈরি। প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অমূল্য মূর্তিটি সুপ্রাচীন বৌদ্ধ বা পাল যুগের। আবার অনেক গবেষকের দাবি, মূর্তিটির বয়স দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এবং এটি সরাসরি জৈন আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই মূর্তির আবিষ্কারের ইতিহাসটিও কম রহস্যময় নয়। লোককথা অনুযায়ী, ১৯১৬ সালের আশপাশে বাংলায় এক প্রলয়ংকরী বন্যা হয়েছিল। দামোদরের সর্বগ্রাসী স্রোত সেই সময় বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে বন্যার জল সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর দামোদর নদের গর্ভ থেকেই আবিষ্কৃত হয় কষ্টিপাথরের এই বিরল ও মহামূল্যবান দেবীমূর্তি। এরপর স্থানীয় সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অত্যন্ত ভক্তিভরে দেবীর পুজো শুরু করেন। সেই থেকেই এই স্থানে কঙ্কালেশ্বরী দেবীর নিয়মিত আরাধনা চলে আসছে। প্রায় সারাবছরই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ভক্তদের ঢল নামে, তবে বিশেষ করে কালীপুজোর পবিত্র রাতে এখানে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে যে, এই জাগ্রত মন্দিরে এসে কেউ প্রার্থনা করলে তাঁর সমস্ত মনষ্কামনা অবশ্যই পূর্ণ হয়।