স্ত্রীর দিওয়ালির উপহার কিনে ফেরা আর হলো না! ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে থারের পিষে মারার বিভীষিকা কানপুরে!

দীপাবলির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল বিষাদের করুণ সুরে। স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে উৎসবের সন্ধ্যায় নতুন শাড়ি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন ৫৫ বছর বয়সী সন্তোষ সিং চৌহান। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর মাত্র ৫০০ মিটার আগেই ঘাতক থারের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল তাঁর তাজা প্রাণ। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটে যাওয়া এই বিভৎস সড়ক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক মহিলা গাড়ি চালানো শেখার সময় গতি সামলাতে না পেরে এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সন্তোষবাবু পরিবারকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কেনাকাটা সেরে স্কুটিতে করে ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি থার (Mahindra Thar) সজোরে তাঁর স্কুটারে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার প্রভাব এতটাই মারাত্মক ছিল যে, ঘটনাস্থলেই সন্তোষ সিং চৌহানের মৃত্যু হয়। স্কুটিতে ধাক্কা দেওয়ার পর অনিয়ন্ত্রিত SUV-টি পর পর দুটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে পাশের একটি বাগানে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় অধ্যাপক কৈলাস চৌহান বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন, গাড়িটির ভেতরে দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ ছিলেন এবং এক মহিলাই স্টিয়ারিংয়ে বসে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতার পর অভিযুক্তরা স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি ফেলে রেখেই চম্পট দেয়। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্য একটি গাড়ি এসে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত তিন আরোহী সেই গাড়িতে চেপে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ট্র্যাক করে জানতে পেরেছে যে থারটির মালিক কৃষ্ণকুমার নামের এক ব্যক্তি, যিনি কানপুরের পাঙ্কির বাসিন্দা। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করে আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করেছে।