‘যা খুশি তদন্ত করা যাবে না’, ইডির হাত বাঁধল আদালত, কোন বড় রায়ে কাঁপল কেন্দ্রীয় এজেন্সি?

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কোনও ‘সুপার কপ’ বা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী সংস্থা নয় যে নজরে আসা মাত্রই যা কিছু নিয়ে তদন্ত শুরু করে দেবে—এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে এটিই স্পষ্ট জানিয়ে দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মূল অপরাধ বা ‘প্রেডিকেট অফেন্স’-এর মামলা যদি কোনও কারণে আদালতে খারিজ হয়ে যায়, তবে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA)-র অধীনে ইডি আর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে না। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় পুলিশ তফসিলভুক্ত অপরাধের তথ্য পেয়েও পদক্ষেপ না করলে, ইডি নিজে থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘প্রাইভেট কমপ্লেন্ট’ দায়ের করে তদন্তের আর্জি জানাতে পারে না।

কংগ্রেস নেতা কে ওয়াই নানজে গৌড়া ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা আর্থিক তছরুপের মামলা খারিজ করে দিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এম আই অরুণ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত সামগ্রী অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পিএমএলএ আইনের ৬৬(২) ধারা অনুযায়ী ইডি কেবল তফসিলভুক্ত অপরাধের তথ্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠাতে পারে। কিন্তু নিজেদের উদ্যোগে প্রাইভেট কমপ্লেন্ট ফাইল করে ইডি পিএমএলএ তদন্ত শুরু করার ক্ষমতার অধিকারী নয়।

এই মামলার ইতিহাস বেশ জটিল। কংগ্রেস নেতা নানজে গৌড়া যখন মালুরের ল্যান্ড গ্র্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৮ জনকে অবৈধভাবে জমি বরাদ্দের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে দায়ের হওয়া এই মূল মামলার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৩ সালে ইডি আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন কোলার অ্যান্ড চিক্কাবল্লাপুর মিল্ক ইউনিয়ন লিমিটেড (KOMUL)-এর কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির কিছু নথি ইডির হাতে আসে। ইডি তা স্থানীয় পুলিশকে জানালেও পুলিশ বিষয়টিতে কোনও পদক্ষেপ করা প্রয়োজন মনে করেনি।

পরবর্তীতে উপযুক্ত অনুমতির অভাবে মূল জমি সংক্রান্ত মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। কিন্তু ইডি ২০২৪ সালে নিজেই আদালতে প্রাইভেট কমপ্লেন্ট দায়ের করে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত লোকায়ুক্তের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানায়। ইডির দাবি ছিল, প্রযুক্তিগত কারণে মূল মামলা বন্ধ হলেও তারা তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।

তবে সুপ্রিম কোর্টের ‘বিজয় মদনলাল চৌধুরী বনাম ভারত সরকার’ মামলার নজির তুলে ধরে কর্ণাটক হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, অপরাধলব্ধ অর্থের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে গেলে মূল মামলা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক সংস্থা এফআইআর দায়ের করলেই কেবল ইডির কাজ শুরু হয়। মূল মামলা বন্ধ হলে ইডির তদন্তও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

বিচারপতি অরুণ মন্তব্য করেন, “সংবিধানে ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট বিভাজন রয়েছে। ইডি কোনো সাধারণ নাগরিক নয় যে ইচ্ছেমতো প্রাইভেট কমপ্লেন্ট দায়ের করবে। অন্য সরকারি সংস্থা পদক্ষেপ নেওয়া নিষ্প্রয়োজন মনে করা সত্ত্বেও ইডিকে এমন সুযোগ দিলে তাদের ‘সুপার কপ’ বানিয়ে ফেলা হবে, যা আইনের মূল চেতনার পরিপন্থী।” এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ইডির ক্ষমতার পরিধি পুনরায় স্পষ্ট করা হলো