মাটনের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ, টেপে মোড়া লাশ! বেঙ্গালুরুতে ৭ স্বজনকে নৃসংসবাবে খুনে ফাঁস ভয়ঙ্কর ব্লু-প্রিন্ট

ক্যাব ড্রাইভার ইন্দুশেখরের ছক কষা নৃসংসেতায় স্তম্ভিত অপরাধ জগৎ। নিজের স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক, তাঁদের স্ত্রী ও সাত বছরের এক শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন সদস্যকে একে একে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে সামনে এসেছে এক শিহরণ জাগানো তথ্য। শ্বশুরবাড়ির গোটা বংশ মুছে দিতে অভিযুক্তের ঠাণ্ডা মাথার ব্লু-প্রিন্ট চোখ কপালে তুলেছে তদন্তকারীদেরও।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত নিঁখুত। প্রথমে কায়দা করে মাটনের সুস্বাদু পদ রান্না করতেন ইন্দুশেখর। এরপর পরিচিতদের বাড়িতে ডেকে সেই মাটন ও মদের সঙ্গে মিশিয়ে দিতেন কড়া ঘুমের ওষুধ। সকলে অচৈতন্য হয়ে পড়লে শিলনোড়া দিয়ে সজোরে আঘাত করে মাথা থেঁতলে খুন করা হতো তাঁদের।
খুনের পর রক্ত যাতে মেঝেকে ভিজিয়ে না দেয় এবং পচনের দুর্গন্ধ বাইরে না ছড়ায়, তার জন্য মৃতদেহগুলোকে অন্তত ১০টি স্তরে আঠালো টেপ দিয়ে মুড়ে ফেলতেন তিনি। এরপর দুর্গন্ধ ঢাকতে ছিটানো হতো গোলাপজল। প্রাথমিকভাবে নিজের ঘরেই দেহগুলো লুকিয়ে রাখতেন অভিযুক্ত। পরবর্তীকালে রাতের অন্ধকারে নিজের ক্যাবে করে নির্জন এলাকায় ফেলে দিতেন দেহগুলি। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং কারও সন্দেহ এড়াতে ক্যাবের পেছনের কাচে সাঁটানো ছিল ‘PRESS’ স্টিকার! পুলিশ ইতোমধ্যে সেই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
তদন্তের তথ্য বলছে, এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে ইন্দুশেখরের প্রথম শিকার ছিলেন তাঁর স্ত্রী সুনীতা। তাঁকে খুনের পর দেহ নন্দী হিলসে ফেলে এসে প্রতিবেশীদের জানান স্ত্রী ঘুরতে গেছেন। এরপর পার্টির অজুহাতে দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে ডেকে এনে খুন করেন। পরবর্তীতে তাঁদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যা, শাশুড়ি রূপবতী এবং ৭ বছরের ভাইপো পুনীতকেও একই কায়দায় খতম করা হয়। খুনের সমস্ত প্রমাণ ও রক্তের দাগ মেটাতে ব্যবহার করা হতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক।
অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি ও সেলমের অপরাধস্থলগুলোতে পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক অশান্তির জেরে মানসিক অবসাদের কথা বললেও, এর নেপথ্যে অন্য কারও বা তাঁর নিজের মেয়ের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।