২৩ বছর পর বিস্ফোরক মোড়! ছেলের আসল বাবার খোঁজে উত্তরাখণ্ড কাঁপাচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা মহিলা

উত্তরাখণ্ডের রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ সৃষ্টি হয়েছে এক তীব্র আলোড়ন। ২৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক নারকীয় ঘটনার বিচার ও সন্তানের পিতৃত্বের অধিকারের দাবিতে অসমে থেকে দেরাদুনে ফিরে এসেছেন এক নির্যাতিতা মহিলা। ২০০৩ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর ওপর মারাত্মক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ঘটনার ফলে জন্ম নেওয়া ২৩ বছরের ছেলের প্রকৃত বাবার পরিচয় সামনে আনতে হবে। এর জন্য তিনি সরাসরি সিবিআই তদন্ত ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার আইনি দাবি জানিয়েছেন।
গত শনিবার উত্তরাখণ্ডের ডিজিপি (DGP) দীপম শেঠের সঙ্গে দেখা করে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অঝোরে কেঁদে ফেলে বলেন, “আমার ছেলের পরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য আমি উত্তরাখণ্ডে ফিরেছি। ঘটনার সময় আমাকে হুমকি দিয়ে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির ওপর ভরসা রেখেই আমি সত্য প্রকাশের সাহস পেয়েছি।” ১৬ বছর বয়সে ঘটা সেই নারকীয় ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তৎকালীন মন্ত্রী তাঁকে প্রায় দেড় মাস বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালান এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ২০০৩ সালে কংগ্রেসে ছিলেন, ২০১৬ সালে বিজেপি-তে যোগ দেন এবং সম্প্রতি পুনরায় কংগ্রেস শিবিরে ফিরে এসেছেন। ২০১৬ সালে এই বিষয়ে জলঘোলা হলে সিবিআই তদন্তের কথা বলা হলেও তা ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ। তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নির্যাতিতা স্পষ্ট জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর নাম নিয়ে কোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন তিনি বরদাস্ত করবেন না। রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হলে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত প্রবীণ রাজনীতিবিদ। পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, আদালতের পাশাপাশি সিবিআই-ও তাঁকে নির্দোষ হিসেবে মুক্ত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি দোষী হলে পরবর্তীতে বিজেপি আমাকে দলে নিয়ে মন্ত্রী করত না, আর জনগণও আমাকে পর পর তিনবার জয়ী করত না।” বর্তমানে পুরো রাজ্য রাজনীতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার জল কোন দিকে গড়ায় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে।