প্রতি ১২ বছর অন্তর হয় অলৌকিক নবকলেবর! মেদিনীপুরের উগ্র তারা মায়ের মন্দিরের গা ছমছমে সত্য

মেদিনীপুরের মহাতাবপুরে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন উগ্র তারা মায়ের মন্দির ঘিরে আজও লোকমুখে নানা রহস্য ও অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরে দেবীর বিগ্রহ তৈরি করা হয়েছিল মানুষের হাড়গোড় এবং মাথার খুলি দিয়ে। যা একে অন্যান্য সাধারণ মন্দিরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অত্যন্ত রহস্যাবৃত করে তুলেছে। তন্ত্রসাধনার অন্যতম প্রধান পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরে বছরের পর বছর ধরে গোপন আচার-অনুষ্ঠান ও সাধনা চলে আসছে।

ঐতিহাসিক ও স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, অতীতে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে ভিড় জমাতেন দেশের নামী-দামি তান্ত্রিক ও সাধকেরা। অমাবস্যার রাতে মন্দিরের পরিবেশ হয়ে উঠতো গা ছমছমে। প্রাচীনকালে এখানে নরবলির মতো কঠোর ও ভয়ংকর প্রথা প্রচলিত ছিল বলে দাবি করেন অনেক প্রবীণ বাসিন্দা। কথিত আছে, দেবীর কোপ থেকে রক্ষা পেতে এবং সিদ্ধিলাভের আশায় প্রাচীনকালে গভীর রাতে গোপন তন্ত্রাচার সম্পন্ন করা হতো। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব ভয়ংকর প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, তবুও মন্দিরের অলৌকিক পরিবেশ এবং প্রাচীন ঐতিহ্য আজও অটুট।

এই মন্দিরের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো দেবীর নবকলেবর। পুরীর শ্রীজগন্নাথ দেবের মতোই এই মন্দিরেও প্রতি ১২ বছর অন্তর দেবীর নবকলেবর অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমক ও গোপনীয়তার সঙ্গে উদযাপিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর দেবীর পুরনো রূপ পরিবর্তন করে নতুন বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

পরবর্তী নবকলেবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৮ সালের মাঘ মাসে। এই বিশেষ ক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং ভক্তদের মধ্যে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাঘ মাসের সেই মহালগ্নে দেশ-বিদেশের বহু সাধু-সন্ত ও ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেদিনীপুরের এই রহস্যে ঘেরা উগ্র তারা মায়ের মন্দির আজও তার প্রাচীন তন্ত্র ঐতিহ্য ও অলৌকিক বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।