“আমার স্বামী যৌন অক্ষম…” সন্তানের জন্ম দিতে দেবরের সঙ্গে শারীরিক মিলনে চাপ! ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় তোলপাড়

বংশরক্ষার এক অদ্ভুত ও অন্ধকার দিক ফের প্রকাশ্যে এল। সন্তান লাভের এক আজব ও অনৈতিক আবদার ঘিরে এক গৃহবধূর ওপর নেমে এল অকথ্য নির্যাতন। নিজের স্বামী যৌন অক্ষম— এই সত্য গোপন করে সন্তান লাভের জন্য দেবরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে স্ত্রীকে জোর করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় ওই মহিলার ওপর দিনের পর দিন চলেছে অকথ্য মারধর ও শারীরিক নির্যাতন।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের রামগড় (Ramgarh, Jharkhand) এলাকায়। এই ঘটনায় স্বামীর চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশে দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

স্বামীর আজব চাপ ও অকথ্য নির্যাতন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই ওই মহিলা বুঝতে পারেন তাঁর স্বামী যৌন অক্ষম। কিন্তু সেই কথা প্রকাশ না করে উল্টে স্ত্রীর ওপর চেপে বসে বংশরক্ষার ভূত। অভিযোগ, স্বামীর প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও জেদের জেরে তাঁর ছোট ভাই বা দেবরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ওই গৃহবধূকে লাগাতার চাপ দিতে শুরু করে তার স্বামী।

কিন্তু স্বামীর এই বিকৃত মানসিকতা ও অনৈতিক প্রস্তাবে পরিষ্কার না করে দেন স্ত্রী। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বামী। অভিযোগ উঠেছে, দেবরের সঙ্গে শারীরিক মিলনে রাজি না হওয়ায় ওই মহিলার ওপর নেমে আসে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। প্রতিদিনের মারধর ও গালিগালাজে জর্জরিত হয়ে একসময় চরম মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী।

পুলিশের அதிர পদক্ষেপ, এফআইআর দায়ের

পরিবার ও প্রতিবেশীদের একাংশের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সমস্ত ভয়কে দূরে সরিয়ে স্বামী ও দেবরকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই গৃহবধূ।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে রামগড় থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী এবং তাঁর ছোট ভাই তথা দেবরের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। আধুনিক সমাজে এমন মধ্যযুগীয় ও পৈশাচিক মানসিকতার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।