রাজ্যের সমস্ত স্কুলের মিড-ডে মিলেই আমূল বদল! সেন্ট্রাল কিচেন থেকে ‘অন্নামৃত’ নিয়ে নির্দেশিকা জারি নবান্নের

রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের মিড-ডে মিল ব্যবস্থা পরিচালনায় এবার এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এতদিন স্কুলভিত্তিক পৃথক রান্নার বদলে এবার রাজ্যের সমস্ত জেলায় ধাপে ধাপে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে পুষ্টিকর ও উন্নতমানের খাবার সরবরাহের মূল দায়িত্ব পেতে চলেছে বিশ্বস্ত সংস্থা অন্নামৃত ফাউন্ডেশন (Annamrita Foundation)।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ’ বা ‘পিএম পোষণ’ (PM POSHAN) প্রকল্পের অধীনে এই সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। শনিবার এ বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (District Magistrates) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নবান্নের নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য ও মেগা সম্প্রসারণ

কয়েক মাস আগেই দক্ষিণ কলকাতা এবং তার সংলগ্ন একাধিক পুর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন কেন্দ্রীয় রান্নাঘর ভিত্তিক খাবারের শুভ সূচনা করেন। সেই সময়েই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ রাজ্যজুড়েই এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। শনিবার শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর সেই প্রক্রিয়াই দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

জেলায় জেলায় গড়ে উঠবে আধুনিক ‘সেন্ট্রাল কিচেন’

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ধাপে ধাপে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘সেন্ট্রাল কিচেন’ (Central Kitchen) বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর গড়ে তোলা হবে। এক ছাদের তলায় অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশাল পরিমাণ খাবার তৈরি করা হবে এবং তা বিশেষ থার্মাল ও হাইজিনিক ট্রাকে করে নি নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

জেলাশাসকদের জরুরি বার্তা ও তৎপরতা

নতুন এই ব্যবস্থা রূপায়ণে জেলা প্রশাসনগুলিকে দ্রুত কাজ শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

  • তথ্য সংগ্রহ: প্রতিটি জেলায় সরকারি ও সরকার পোষিত মোট কতগুলি স্কুল রয়েছে, কতজন শিক্ষার্থী সুবিধা পায় এবং ভৌগোলিক অবস্থান কেমন— তার নিখুঁত ডেটাবেস অন্নামৃত ফাউন্ডেশনকে দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • লক্ষ্য: স্কোলে শিশুদের উপস্থিতি বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টির মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

শিক্ষা দপ্তরের এই পদক্ষেপে যেমন পড়ুয়াদের পুষ্টির মান বহুগুণ বাড়বে, তেমনই খাদ্যের বিশুদ্ধতা ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha