শেয়ারবাজারে ইতিহাস! সংবৎ ২০৮২-তে আইপিও থেকে রেকর্ড ২.২৩ ট্রিলিয়ন টাকা তুলল ভারত, তৈরি হলো নতুন মাইলফলক

ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রাথমিক পরিকাঠামোয় তৈরি হলো এক ঐতিহাসিক নজির। সদ্য সমাপ্ত সংবৎ ২০৮২-তে (২১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে ৬ নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে) দেশের প্রাথমিক বাজার (Primary Market) থেকে ৩৭৫টি ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও (IPO)-র মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে রেকর্ড ২.২৩ ট্রিলিয়ন রূপাই (কোটি টাকা)। দালাল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের অভূতপূর্ব উৎসাহ ও আস্থার দরুন এই বিপুল অর্থ উঠে এসেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

প্রাইম ডেটাবেসের (Prime Database) সাম্প্রতিক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের সিংহভাগ বা ২.১২ ট্রিলিয়ন রুপিই এসেছে ১৩১টি মেইনবোর্ড ইস্যু থেকে। বাকি অর্থ সংগ্রহ করেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SME) অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলি। সংবৎ ২০৮১-তে মেইনবোর্ড আইপিও থেকে যেখানে ১.৭৮ ট্রিলিয়ন রুপি সংগৃহীত হয়েছিল, তার তুলনায় সংবৎ ২০৮২-তে এই পরিমাণ প্রায় ১৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল পরিসংখ্যান ও প্রধান ৩টি আকর্ষণ:

  • মেইনবোর্ড ইস্যুর উত্থান: এক বছর আগে যেখানে মেইনবোর্ড আইপিও-র সংখ্যা ছিল ১০৪টি, সংবৎ ২০৮২-তে তা প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩১টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

  • নতুন মূলধনের রেকর্ড বৃদ্ধি: বাজারে নতুন মূলধনের (Fresh Capital) পরিমাণ ৭০,৬৪১ কোটি টাকা থেকে এক ধাক্কায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে।

  • অফার ফর সেল (OFS): অফার ফর সেলের পরিমাণ ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.০৭ ট্রিলিয়ন রূপাই থেকে ১.১২ ট্রিলিয়ন রুপিতে এসে ঠেকেছে। তবে মোট সংগৃহীত অর্থে OFS-এর অংশ গতবারের ৬০.২ শতাংশ থেকে সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৫২.৮ শতাংশে।

উল্লেখ্য, সংবৎ ২০৮২-তে বাজার কাঁপানো ৩৭৫টি আইপিও-র মধ্যে প্রায় ২৩০টি কোম্পানিই তাদের নির্ধারিত ইস্যু মূল্যের (Issue Price) থেকে উঁচুতে তালিকাভুক্ত (Listed) হয়ে বিনিয়োগকারীদের পকেটে মোটা অঙ্কের রিটার্ন বা মুনাফা এনে দিয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের এমন ধারাবাহিক উত্থান আগামী দিনেও প্রাথমিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।