হলিউড-বলিউড তোলপাড় করা সেই বিতর্ক! “আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে ফোন আসত…” ইন্ডাস্ট্রি বয়কট নিয়ে বিস্ফোরক বিবেক ওবেরয়

২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে বলিউডের আকাশে ধূমকেতুর মতো উত্থান ঘটেছিল অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের। ‘কোম্পানি’ কিংবা ‘সাথিয়া’-র মতো একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। তবে ২০০৩ সালের একটি বহুচর্চিত ও বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলন এক লহমায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয় জীবনকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেয়। অতি সম্প্রতি পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে শূর্পণখার স্বামী বিদ্যুৎ্জিহ্বার চরিত্রে অভিনয় করে ফের চর্চায় আসা বিবেক, বহু বছর পর নিজের জীবনের সেই কঠিন ও অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ‘রিলার্ন’ পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে বিবেক ওবেরয় প্রকাশ করেছেন যে, সেই ঘটনার পর থেকে তাঁর জীবন কার্যত নরকে পরিণত হয়েছিল। একের পর এক প্রযোজক ও পরিচালক তাঁকে সিনেমা থেকে বাদ দিতে শুরু করেন এবং গোটা ইন্ডাস্ট্রি তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করে নেয়।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি ও বয়কটের শিকার

পডকাস্ট চলাকালীন ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের সেই বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিবেক কারও নাম উল্লেখ না করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “সেটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ একটি সময়। আমি কেবল এমন কিছু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, যা আমার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল ছিল। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে মানবতা ও সামাজিক আচরণের কিছু সুনির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত, যা কখনোই অতিক্রম করা ঠিক নয়। নারীদের সম্মান করা উচিত এবং তাঁদের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করা উচিত। আমার কাছে যা অন্যায় মনে হয়েছিল, আমি শুধু তারই প্রতিবাদ করেছিলাম। আর তারপর থেকেই আমার ওপর শুরু হয় চরম মানসিক ও পেশাগত নির্যাতন।”

বিবেক আরও দাবি করেন, সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে যেসব নামী চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের কাছেও হুমকি ফোন যেতে শুরু করে। আন্ডারওয়ার্ল্ড ও প্রভাবশালী মহল থেকে ফোন করে নির্মাতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হতো, তারা যেন বিবেক ওবেরয়কে নিজেদের ছবিতে না নেন।

একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চরম মাশুল দিতে হয়েছিল এই অভিনেতাকে। রাতারাতি কাজ হারিয়ে এবং ইন্ডাস্ট্রির বয়কটের মুখে পড়ে যেভাবে তাঁর উদীয়মান ক্যারিয়ার ধাক্কা খেয়েছিল, সেই স্মৃতি আজ এত বছর পরেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও বেদনাদায়ক। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে বিবেক যে আবারও অভিনয়ের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন, তা তাঁর অনুরাগী ও সিনেপ্রেমীদের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা।