বাংলাদেশের ৩ এলাকা ভারতের দখলে নেওয়ার দাবি! নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যে তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) পুনরুদ্ধারের দাবির মাঝেই এবার বাংলাদেশের অন্তর্গত নোয়াখালী, সিলেট এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পারদ চড়ালেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। একই সঙ্গে দেশভাগের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র তোপ দেগেছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ অভিযোগ করেন, তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব ও নেহরুর ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ভারতের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি ভারতের হাতছাড়া হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অধীনে চলে যায়।
নেহরুর সিদ্ধান্ত এবং নোয়াখালীর ইতিহাস নিয়ে তোপ
বিজেপি সাংসদের দাবি, দেশভাগের সময় ঐতিহাসিক এই এলাকাগুলি ত্রিপুরার তৎকালীন টিপরা রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তৎকালীন শাসক মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই অঞ্চলগুলির ভবিষ্যৎ হস্তান্তর নিয়ে আপত্তি জানালেও জওহরলাল নেহরু তা গ্রাহ্য করেননি।
১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, “সে সময় হাজার হাজার হিন্দুর ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চলা সত্ত্বেও নেহরুর প্রধান লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লীগকে যুক্ত করা। সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাননি।”
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াতেই পিছিয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত
নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। তাঁর মতে:
অর্থনৈতিক ক্ষতি: দেশভাগের সময় চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার ফলেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির (North-East India) অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
যোগাযোগের সমস্যা: সরাসরি সমুদ্রবন্দরে প্রবেশের সুবিধা না থাকায় উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদ, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের উপযুক্ত বাণিজ্য এবং পরিবহন সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।
বিজেপি সাংসদ স্পষ্ট জানান, কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের দাবির পাশাপাশি ভারতের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ঐতিহাসিক এই অঞ্চলগুলি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।