‘বিশ্বাস করুন, আমরা কিচ্ছু জানতাম না!’ পরিবারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রসূতির লোমহর্ষক কাণ্ডে স্তব্ধ রাজ্য

হুগলির উত্তরপাড়া পৌরসভায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র সতেরো বছর বয়সী এক নাবালিকা প্রসূতি মা নিজের পরিচয় ও গর্ভধারণের সত্যতা গোপন করার হীন উদ্দেশ্যে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে সদ্যোজাত একটি ফুটফুটে শিশুকে সোজা নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ভয়ঙ্কর ও অমানবিক কাণ্ডের খবর চাউর হতেই স্থানীয় এলাকাবাসী থেকে শুরু করে গোটা স্বাস্থ্যমহলে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার গভীর রাতে। হাওড়ার বাসিন্দা বছর ষোলো-সতেরোর ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক নাবালিকাকে তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে উত্তরপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছিল। নাবালিকার পরিবার ও মা সংবাদমাধ্যমকে চরম কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই সম্পূর্ণ ঘটনার বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতেন না। নাবালিকার মায়ের দাবি, ‘‘বিশ্বাস করুন, আমরা সত্যি কিচ্ছু জানতাম না। ও শুধু পেটে ব্যথার কথা বলছিল, সেই কথাতেই আমরা ভালো চিকিৎসার জন্য ওকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। ও যে গর্ভવતી ছিল, তা আমাদের পরিবারে কেউ বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি।’’

অন্যদিকে, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। নার্সিংহোমের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুচেতা মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই নাবালিকা গতকাল গভীর রাতে অর্থাৎ রাত একটা নাগাদ পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিল। সকালে তার রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং পেটের ব্যথা কিছুটা বাড়ায় সে নিজেই হেঁটে হেঁটে বাথরুমে যায়। বাথরুমে থাকাকালীন সে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজেই গোপনে একটি সন্তান প্রসব করে। এরপর লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং সে যে গর্ভবতী ছিল তা প্রমাণহীন করতে সদ্যোজাত শিশুটিকে নার্সিংহোমের জানলা দিয়ে সোজা নিচে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, সেই সময় নিচে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন এক স্থানীয় যুবক। তিনি হঠাৎ ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার বিকট শব্দ শুনতে পান। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে দেখেন রক্তমাখা একটি সদ্যোজাত শিশু মাটিতে পড়ে রয়েছে। ওই যুবক দ্রুত বাকি স্থানীয়দের ডেকে আনেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই নার্সিংহোম চত্বরে হুলুস্থুল পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নার্সিংহোম থেকে একজন নার্স সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এসে দ্রুত শিশুটিকে তুলে ভেতরে নিয়ে যান। এদিকে দিনের আলো ফুটতেই এই নির্মম ঘটনা চাউর হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একবাক্যে একে জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে। প্রসূতি নাবালিকা ও উদ্ধার হওয়া শিশুটির বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো চাপ বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছে।