শীতের শুরুতে গর্ভবতীদের জন্য বড় বিপদের ঘণ্টা! অবহেলা করলেই বাড়বে চরম ঝুঁকি, চিকিৎসকদের জরুরি সতর্কতা

নভেম্বর মাসের শুরুতেই আবহাওয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। সকাল ও সন্ধ্যার কনকনে ঠান্ডা এবং দিনের বেলার রোদের লুকোচুরি খেলার জেরে এই মুহূর্তে ঋতুজনিত সংক্রমণের প্রকোপ অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হবু মায়েদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং উৎসবের মরসুমের ক্লান্তি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম থাকে, যার ফলে তাঁরা খুব সহজেই ভাইরাল ইনফেকশন, সর্দি-কাশি এবং ফ্লুর মতো সংক্রমণে আক্রান্ত হন। একটুখানি অসাবধানতা বা অবহেলা গর্ভস্থ ও প্রসূতির স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মীরা পাঠক (এমবিবিএস, এমএস) হবু মায়েদের সুরক্ষায় কিছু অত্যন্ত জরুরি ও জীবনদায়ী পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে নিজেদের সুস্থ রাখতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক। প্রথমত, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে বা কিছু খাওয়ার আগে সবসময় সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত জনবহুল বা ভিড়ভাট্টা পূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে যাঁদের ইতিমধ্যেই সর্দি, কাশি বা জ্বর রয়েছে, তাঁদের থেকে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেওয়া চলবে না, সেজন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল পান করা আবশ্যক। ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চাঙ্গা রাখতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন আমলকী, লেবু, কমলালেবু এবং আয়ুর্বেদিক গুণসম্পন্ন হলুদ দুধ ডায়েটে রাখুন। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, ড্রাই ফ্রুটস বা বাদাম এবং পুষ্টিকর বীজ খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি ফ্লু থেকে সুরক্ষিত থাকতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা বা ফ্লু ভ্যাকসিন গ্রহণ করা অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। এটি গর্ভাবস্থার যেকোনো ত্রৈমাসিকে নেওয়া নিরাপদ এবং এটি মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া বর্তমান ঋতুতে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ঘরে মশারি ব্যবহার করুন এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিকযুক্ত ক্রিমের পরিবর্তে ভেষজ মশা তাড়ানোর উপায় বেছে নিন। বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেবেন না। পরিশেষে, মানসিক চাপ মুক্ত থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। উৎসবের ধকল বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের মাঝেও প্রতিদিন রাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা এবং দিনে অন্তত দু’ঘণ্টা শান্তির ঘুম নিশ্চিত করুন। যদি এর মাঝেও অতিরিক্ত জ্বর, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে কোনো ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপ না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।