হায়দরাবাদের বিলাসবহুল হোটেলে রহস্যমৃত্যু মার্কিন ব্যবসায়ীর! ১২ তলার ঘর থেকে উদ্ধার দেহ, চাঞ্চল্য

হায়দরাবাদের গাছিবাউলির এসএলএন টার্মিনাসে অবস্থিত সুপরিচিত ‘ম্যারিয়ট এক্সিকিউটিভ অ্যাপার্টমেন্টস’ হোটেলের একটি কামরা থেকে ৪১ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিনদেশি এই ব্যবসায়ীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যে দানা বেঁধেছে গভীর সন্দেহ। সাইবারাবাদ কমিশনারেটের গাছিবাউলি থানা পুলিশ এই ঘটনায় একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’র মামলা রুজু করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি উদঘাটনে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই মার্কিন নাগরিকের নাম মিচেল ব্রায়ান লি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। পেশাগত সূত্রে ব্যবসায়িক কাজের জন্য তিনি গত ২ নভেম্বর নিজের এক ব্যবসায়িক সহযোগী ডেভিডের সঙ্গে ভারতে আসেন এবং হায়দরাবাদে পৌঁছে ওই বিলাসবহুল হোটেলের ১২ তলার ১২১৮ নম্বর ঘরে অতিথি হিসেবে ওঠেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই মিচেল ব্রায়ান লি ফোনে কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করছিলেন না এবং বারবার ফোন করার পরেও তিনি কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় হোটেল কর্মীদের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ হোটেল কর্মীরা বিকল্প মাস্টার কি বা চাবি ব্যবহার করে ওই নির্দিষ্ট ঘরটি খুলতে বাধ্য হন। ঘরের দরজা খুলতেই তাঁরা দেখতে পান যে, মার্কিন ব্যবসায়ী বিছানার ওপর সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত ১০৮ জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় খবর পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসাকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিচেল ব্রায়ান লি-কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পরেই নিশ্চিত করেন যে, ওই ব্যবসায়ী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। হোটেলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর পাঠানো হলে গাছিবাউলি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ পুরো ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশ বর্তমানে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক সমস্ত দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী এবং হোটেলের অন্যান্য কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং সময়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে আসা একজন ব্যবসায়ীর এভাবে হোটেল কক্ষে রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় হায়দরাবাদের শিল্পমহল ও পর্যটন মহলে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।