৯০-এর দশকের সেই হারানো মিষ্টি মনে আছে? দিওয়ালিতে বানিয়ে ফেলুন শেফ পঙ্কজ ভাদৌরিয়ার স্পেশাল ‘হালকোভা’!

নব্বইয়ের দশকের নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরল সেই আমলের জনপ্রিয় সুস্বাদু মিষ্টি ‘হালকোভা’। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি অচেনা হলেও নব্বইয়ের দশকের ছেলেমেয়েদের কাছে এটি ছিল শৈশবের এক পরম প্রাপ্তি। দুধ বা খোয়া ক্ষীর ছাড়াই অত্যন্ত সাশ্রয়ী উপায়ে ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা যায়। উৎসবের মরসুমে এই ঐতিহ্যবাহী বরফির ম্যাজিক আপনার দিওয়ালি সেলিব্রেশনকে করে তুলবে দ্বিগুণ মিষ্টি। বিখ্যাত শেফ পঙ্কজ ভাদৌরিয়া তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই লোভনীয় রেসিপিটি শেয়ার করেছেন, যা ঝটপট বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন অতিথিদের।

হালকোভা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সময়
এই সুস্বাদু মিষ্টান্নটি তৈরি করতে আপনার খুব বেশি সময় লাগবে না। এর প্রস্তুতিতে সময় লাগে মাত্র ৫ মিনিট, রান্না করতে সময় নেয় ১৫ মিনিট এবং সেট হতে সময় নেয় ৩০ মিনিট। এই পরিমাণে ৩ থেকে ৪ জন সদস্যের জন্য অনায়াসেই পরিবেশন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো—১ কাপ ঘি, ২ কাপ ময়দা, ১ কাপ চিনি, ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো এবং সাজানোর জন্য কিছু পেস্তার টুকরো।

সহজ ধাপে তৈরি করুন ‘হালকোভা’
প্রথমত, একটি প্যানে পরিমাণমতো ঘি গরম করে তাতে ময়দা ঢেলে দিন। কম আঁচে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ময়দা হালকা সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ভাজার একপর্যায়ে ময়দা থেকে ঘি আলাদা হতে শুরু করবে এবং একটি নরম পেস্টে পরিণত হবে, যা রান্নার সঠিক পর্যায় নির্দেশ করে। ময়দা ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে তাতে গুঁড়ো চিনি ও এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। চিনি ও এলাচ যোগ করার পর মিশ্রণটি মাত্র ২ মিনিট নেড়েচেড়ে আঁচ বন্ধ করে দিন। এরপর একটি ট্রে বা প্লেটে সামান্য দেশি ঘি মাখিয়ে তাতে প্রস্তুত করা ময়দার মিশ্রণটি ঢেলে সেট হওয়ার জন্য একপাশে রেখে দিন। মিশ্রণটি পুরোপুরি জমে গেলে ছুরির সাহায্যে বরফির আকারে কেটে নিন। আপনার কাছে পেস্তার টুকরো থাকলে হালকোভার ওপরে ছড়িয়ে দিয়ে হাতা দিয়ে হালকা করে চেপে দিন।

দীর্ঘদিন সংরক্ষণের অভিনব উপায়
নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় মিষ্টির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘসময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। উৎসবের মরসুমে কাজের ব্যস্ততার মাঝে আগে থেকেই এটি বানিয়ে একটি বায়ুরোধী পাত্রে বা এয়ারটাইট কনটেইনারে সংরক্ষণ করতে পারেন। কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে এই সুস্বাদু ঘরোয়া মিষ্টি দিওয়ালির উৎসবে যোগ করবে এক নস্টালজিক আমেজ।