নেপাল সীমান্তের কাছেই লুকিয়ে রয়েছে অপরূপ রত্ন, উইকেন্ডে কোথায় কম খরচে পাবেন এমন রূপ?

শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে, পাহাড়ের কোলে মেঘের আনাগোনা আর দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে যদি কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তবে আপনার ভ্রমণ তালিকায় রাখতেই পারেন ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী সুকিয়ার গোলিটার ভিউ পয়েন্টকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অফবিট পর্যটনস্থল যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক নতুন ও অপরূপ ঠিকানা। এখানকার প্রধান আকর্ষণ দূরে বরফে ঢাকা বিশ্ববিখ্যাত কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র রূপ, চারপাশের সবুজ পাহাড় এবং প্রশান্ত পরিবেশ। পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এই স্থানটি ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠছে।
গোলিটার ভিউ পয়েন্ট থেকে উপভোগ করা যায় একাধিক মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। একদিকে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফাবৃত সুন্দর শৃঙ্গ, অন্যদিকে চোখে পড়ে ঐতিহাসিক চিত্রে গুম্ফা, মানেভঞ্জ বাজার এবং প্রতিবেশী নেপালের সবুজে মোড়া পাহাড়ি উপত্যকা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহ, মেঘের ওড়াউড়ি এবং নির্মল পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করতে বাধ্য। বিশেষ করে পরিষ্কার আবহাওয়ায় সকালবেলার দৃশ্য সফরকারীদের সেরা অভিজ্ঞতা উপহার দেয়। শিলিগুড়ি থেকে সুকিয়া পোখরি হয়ে এখানে পৌঁছতে প্রায় ৭৫-৮৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়, আর এনজেপি থেকে দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এনজেপি থেকে ছোট গাড়ির রিজার্ভ ভাড়া ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকার মতো পড়ে। কম খরচে যেতে চাইলে শিলিগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি-মিরিক শেয়ার গাড়িতে উঠে সেখান থেকে সুকিয়া পোখরির দিকে অন্য গাড়ি ধরা যায়।
এক-দু’দিন প্রকৃতির মাঝে থাকতে চাইলে সুকিয়া পোখরি, সিমানা, মিম টি গার্ডেন ও জোরেপোখরি সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু হোমস্টে ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। জোরেপোখরি ট্যুরিস্ট লজ এবং লেপচাজগতের হোমস্টেগুলিও দারুণ বিকল্প হতে পারে। হোমস্টে-তে থাকা-খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ পড়বে আনুমানিক ১,২৫০ থেকে ২,২৫০ টাকার মধ্যে। দার্জিলিংয়ের চেনা ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের আসল রূপ দেখতে সুকিয়ার গোলিটার ভিউ পয়েন্ট একটি অসাধারণ অফবিট ডেস্টিনেশন।