রাত ১০টায় ভেনাস মোড়ে উপচে পড়ল জনসমুদ্র! ৪৩ ফুটের বামাকালীকে ঘিরে শিলিগুড়িতে অলৌকিক উন্মাদনা

শুক্রবার রাতের শিলিগুড়ি শহরের বুক যেন এক মায়াবী ও অলৌকিক জগতের রূপ নিল। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক রাত ১০টা। উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ভেনাস মোড় অর্থাৎ সফদর হাশমি চকে আচমকাই নেমে এলো এক অপার্থিব পরিবেশ। চারদিকে জ্বলন্ত মশালের রক্তিম আলো, সাথে কাঁসার ঘণ্টা আর ঢাকের কানফাটা বাদ্যি। ঠিক সেই মুহূর্তে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের চোখের সামনে ঘটে গেল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা—ভক্তদের কাঁধে সওয়ার হয়ে মশাল আলোর মাঝে নেচে উঠলেন স্বয়ং মা বামাকালী!

নদিয়ার শান্তিপুরের প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই ‘বামাকালীর নাচ’ সশরীরে চোখের সামনে দেখতে রাত নামতেই গোটা শহর ভেঙে পড়েছিল রাজপথে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শিলিগুড়ির প্রাণকেন্দ্রে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

শিলিগুড়ির সুভাষপল্লীর বিখ্যাত ‘তরুণ অ্যাথলেটিক ক্লাব’-এর উদ্যোগেই এই বিশেষ এবং বিরল রোমাঞ্চকর আয়োজন। টানা দ্বিতীয়বারের জন্য শান্তিপুরের সেই বহু প্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে উত্তরবঙ্গের বুকে জীবন্ত করে তুললেন ক্লাব উদ্যোক্তারা। শুক্রবার রাতে কুমোরটুলি থেকে প্রায় ২০০ জন উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে এক বিশাল ও নজরকাড়া মশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমাকে নিয়ে আসা হয় মণ্ডপের উদ্দেশ্যে।

মিছিলটি রাত ১০টা নাগাদ সফদর হাশমি চকে পৌঁছতেই শুরু হয় মূল রোমাঞ্চ। প্রথা মেনে ঢাকের তালে তালে উন্মত্ত ভক্তরা কাঁধে তুলে নেন মা বামাকালীর বিশাল বিগ্রহ। এরপর মশালের আগুনের আবহে শান্তিপুরের চিরাচরিত ঘরানায় শুরু হয় বামাকালীর তাণ্ডব নৃত্য। দেবীর এই ভয়াল অথচ মহিমান্বিত রূপ দেখে উপস্থিত দর্শনার্থীরা জয়ধ্বনিতে ফেটে পড়েন।

আসলে সন্ধ্যা সাতটা থেকেই এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন। সময় যত গড়িয়েছে, উন্মাদনা তত বাঁধ ভেঙেছে। রাতের দিকে ভেনাস মোড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে। কৌতূহলী দর্শনার্থীদের অনেকেই নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন সেই দৃশ্য, যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে চরম ভাইরাল হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এবার ৬৩তম বর্ষে পদার্পণ করছে তরুণ অ্যাথলেটিক ক্লাবের শ্যামাপুজো। প্রায় ৪৩ ফুট উচ্চতার সুবিশাল বামাকালীর প্রতিমা এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। মণ্ডপোদ্বোধনের আগেই রাজপথে দেবীর এই উন্মাদনাময় নৃত্য প্রমাণ করে দিল—ভক্তি, পরম ঐতিহ্য আর উৎসবের আনন্দ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার শিকলে আটকে থাকে না।