জন্মদিনের রাতেই কালীঘাটে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব! পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে তীব্র বচসায় স্বয়ং অভিষেক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের আগের রাতে কালীঘাট রোডে তৈরি হলো মারাত্মক উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে মমতা তৃণমূল অনুগামী ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। বচসা, হাতাহাতি থেকে শুরু করে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি—দফায় দফায় চলে এই হিংসাত্মক তাণ্ডব। ঘটনা সামাল দিতে গিয়ে স্বয়ং সাংসদ পুলিশ ও ওসির সঙ্গেও তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ। অভিষেকের বাড়ির সামনে অনুগামীরা তাঁর জন্মদিন পালনে জড়ো হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পটুয়া পাড়ায় কালী প্রতিমা নিতে আসা কিছু বিজেপি কর্মীর সঙ্গে ‘চোর চোর’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি ও মারাত্মক ইটবৃষ্টিতে রূপ নেয়। এতে দু’পক্ষের একাধিক কর্মী-সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। এক সমর্থকের হাত থেঁতলে প্লাস্টিক সার্জারি করার মতো অবস্থা তৈরি হয় এবং অন্য একজনের চোখের হাড় ভেঙে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লালবাজার থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সিসিটিভি ভিডিও শেয়ার করে বিস্ফোরক দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ জানান, গত দুদিন ধরে তাঁর বাড়ি রেকি করা হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতেই রিভলভার উঁচিয়ে বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। অভিষেকের দাবি, “গত ৬ মাসে এটি আমাকে প্রাণে মারার সপ্তম চেষ্টা!” এই ঘটনায় তিনি কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, অভিষেকের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ পুরো ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। দিলীপের তোপ, “এত বড় নেতার তো হলে জন্মদিন পালন করা উচিত, ফুটপাতে করলে প্রতিক্রিয়া তো হবেই। রাজনৈতিক মাটি সরে গেলেই মানুষ এসব ইমোশনের কথা বলে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করে।” বর্তমানে এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।