ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে তোলপাড়! অভিশংসনের পরেই গ্রেপ্তার প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট, গৃহবন্দি সান্তিয়াগো পেনিয়া

উয়েনো ব্যাংকের বিতর্কিত পতন এবং ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসিত হওয়ার পরপরই গৃহবন্দি হলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটির আকস্মিক পতনের ফলে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ নাগরিক এবং পেনশনভোগী তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় তুলতে ব্যর্থ হন। এর জেরে রাজধানী আসুনসিওনে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বৃহস্পতিবারই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পেনিয়া, তবে তার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়ে উল্টে তাকে অভিশংসন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের মুখে দাঁড় করায় দেশটির আইনসভা।
শুক্রবার সিনেটের ৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪৪ জনই পেনিয়ার অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া তাঁর আজীবন সিনেট সদস্যপদ এবং আইনি দায়মুক্তির সুবিধা চিরতরে খারিজ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত তৈরি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং পেনশন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও ধামাচাপা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেজ ভেস্টার জানিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে খুব শীঘ্রই তাঁকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।
এই চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই প্যারাগুয়ের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে যারা আজ সর্বস্বান্ত হয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নতুন প্রক্রিয়ায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির টিকিটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা সান্তিয়াগো পেনিয়ার এই নাটকীয় পতন পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে বিশাল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।