কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি নিমেষেই শেষ! আইআইটি গোয়ার নতুন প্রশ্নপত্র দেখে মাথা ঘুরে গেছে নেটিজেনদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) আমাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ করে তুলেছে, তেমনই পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা নকল করার প্রবণতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মুহূর্তে যেকোনো জটিল প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর তৈরি করে দিতে পারে চ্যাটবটগুলি, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবে এই প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েই সম্পূর্ণ অভিনব এক পন্থা অবলম্বন করে তাক লাগিয়ে দিল আইআইটি গোয়া। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের একটি সেমিস্টার শেষের প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা এআই-এর মাধ্যমে নকল করার সমস্ত রাস্তাকে চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।

আইআইটিয়ান আকাশ সম্পূর্ণানন্দ পাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (টুইটার)-এ আইআইটি গোয়ার সেই অদ্ভুত ও অনন্য প্রশ্নপত্রটি শেয়ার করেছেন। ওই ভাইরাল হওয়া প্রশ্নপত্রে দেখা যাচ্ছে, পুরো সেমিস্টার পরীক্ষার পেপারে মাত্র দুটিমাত্র প্রশ্ন রাখা হয়েছে! যার প্রথমটিতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে সেই তৈরি করা প্রশ্নগুলোরই সঠিক উত্তর দিতে হবে।

এই ভাইরাল পোস্টের ক্যাপশনে আকাশ লিখেছেন, ‘‘এই এআই-এর যুগে, যখন অন্য সবাই শুধু পরীক্ষার্থীদের ধরার চেষ্টা করছে, তখন তারা (আইআইটি গোয়া) সোজা নকল করাটাকেই অর্থহীন করে দিয়েছে। আইআইটি অধ্যাপকদের একটা অদ্ভুত গুণ আছে, তাঁরা সবসময় সাধারণের চেয়ে অন্তত দুই ধাপ এগিয়ে চিন্তা করেন।’’

তাঁর মতে, বিগত শতক ধরে পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত এটাই যাচাই করা হতো যে শিক্ষার্থীরা সঠিক উত্তরটি দিতে পারছে কি না। যখন বই বা নিজস্ব স্মৃতি ছাড়া উত্তর পাওয়ার আর কোনো সহজ উপায় ছিল না, তখন সেই পদ্ধতি কার্যকর ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান যুগে অ্যানালগ সার্কিট বা যেকোনো জটিল বিষয়ের নিখুঁত উত্তর একটি এআই চ্যাট উইন্ডোতে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পাওয়া সম্ভব। ফলে পুরনো দিনের মতো মুখস্থ বিদ্যা বা তথ্য মনে রাখার পরীক্ষা নেওয়া মানে যন্ত্রের কাছে হেরে যাওয়ার শামিল।

শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, আইআইটি গোয়ার এই দূরদর্শী ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কেবল অন্ধের মতো মুখস্থ করার দিন শেষ করে দিল না, বরং পড়ুয়াদের মৌলিক চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তাকে খাঁটি উপায়ে যাচাই করার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।