মাত্র ৫০-এই থেমে গেল পথচলা! ঘুনাক্ষরেও টের পাননি কেউ, বিনোদন জগতে নেমে এল চরম শোকের ছায়া

বিনোদন জগতে ফের নেমে এল গভীর শোকের কালো ছায়া। মাত্র ৫০ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘বেভারলি হিলস, ৯০২১০’ এবং জনপ্রিয় সিনেমা ‘ডুড, হোয়্যার’স মাই কার?’ খ্যাত অভিনেত্রী কিমারি জনসন (Kimari Johnson)। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে এই জনপ্রিয় তারকার।

হঠাৎ করে এত কম বয়সে অভিনেত্রীর প্রয়াণের খবরে স্তম্ভিত হলিউড থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর লাখ লাখ অনুরাগী।

হঠাৎ কী ঘটেছিল সেই দিন? পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭শে অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কিমারি। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী ‘সিডার্স-সিনাই’ (Cedars-Sinai) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান যে তিনি ‘হার্ট অ্যানিউরিজম’ (Heart Aneurysm) নামক এক মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসকদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে নিজের বাড়িতেই অত্যন্ত শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘হার্ট অ্যানিউরিজম’ ঠিক কী? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যানিউরিজম বা অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজম হলো হৃদপিণ্ডের প্রধান ধমনীর (Aorta) প্রাচীরে সৃষ্টি হওয়া এক বিশেষ ধরনের স্ফীতি বা দুর্বলতা। ধমনীর এই দুর্বল অংশটি হঠাৎ ফেটে গেলে বা রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শরীরের ভেতর মারাত্মক ও প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয়। এর ফলে হৃদপিণ্ড থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায়, যা দ্রুত রোগীর মৃত্য ডেকে আনে।

শোকে বিহ্বল ভক্ত ও সহকর্মীরা কিমারি জনসনের মৃত্যুর খবর অনলাইনে জানাজানি হতেই সামাজিক মাধ্যমে শোকের ঢল নেমেছে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক অনুরাগী লিখেছেন, “একটি অত্যন্ত সুন্দর আত্মা বড্ড তাড়া করে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”

অন্যদিকে, কিমারির সহ-অভিনেতা জোয়ি ঘোলাম গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেন, “আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে আপনার মতো মানুষকে কাছ থেকে জানার এবং বহু অনুষ্ঠানে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম।” অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি একজন অভিনেত্রীকে এত অকালে হারিয়ে বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।