১১ বছর পর মিলল বিচার! দেববন্দে গণধর্ষণ মামলায় ২ প্রভাবশালী পুলিশ অফিসারের ২০ বছরের সাজা

কথায় বলে, ‘আইনের হাত দীর্ঘ এবং দেরিতে হলেও বিচার মেলে!’ উত্তর প্রদেশের দেববন্দের এক হাড়হিম করা ১১ বছর পুরোনো গণধর্ষণ মামলায় সেই সত্যই ফের প্রমাণিত হলো। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত শোনাল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ঘটনার সময় দেববন্দ থানার তৎকালীন স্টেশন ইন-চার্জ (SHO) ব্রজমোহন যাদব এবং সাব-ইন্সপেক্টর (SI) ভেগপাল সিংকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সাজার পাশাপাশি আদালত দুই অপরাধীর ওপর ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক জরিমানা ধার্য করেছে। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ (হুমকি প্রদান) ধারায় তাদের আরও অতিরিক্ত ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অপরাধের সময় তারা দায়িত্বে থাকলেও দীর্ঘ ১১ বছর বিচারপ্রক্রিয়া চলার কারণে বর্তমানে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।
আদালত চত্বরে জনতার ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ল অপরাধীরা বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারক। শুক্রবার কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত দুই অভিযুক্তকে যখন ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে হাজির করা হয়, তখন তাদের চোখে জল দেখা যায়। যে হাত দিয়ে একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা ছিল, সেই হাত দিয়েই চরম পাপকর্ম করায় বিচারকের কড়া শাস্তির বার্তা শোনামাত্র কেঁদে ফেলে দুই প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা।
আদালত চত্বরের বাইরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও তাদের এই পরিণতি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আসামিদের মুখ ঢেকে আদালতে ঢুকতে দেখে জনতা চিৎকার করে বলতে থাকে— “অপরাধ করার সময় তো দাপট দেখাতে, আজ কেন মুখ ঢেকে কান্না কাটছ? নিজেদের অপকর্মের সাজা এবার ভোগ করো!”
১১ বছর ধরে ভুক্তভোগী নারী এবং তাঁর পরিবার যে আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, এই রায়ের পর তাঁদের চোখে স্বস্তির জল দেখা গেছে। রক্ষকই যেখানে ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছিল, সেখানে আদালত এই কড়া রায় দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল যে, খাকি পোশাক বা পদের প্রভাবের আড়ালে লুকিয়ে কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে পার পাবে না।