১০০ বছর পর ইতিহাস পুনরাবৃত্তি! ভারতের প্রথম মহিলা পরিচালকের ভূমিকায় ঋতুপর্ণা, নেপথ্যে কোন সত্য কাহিনি?

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা নাম ফাতিমা বেগম—যাঁকে বলা হয় ভারতের প্রথম মহিলা চলচ্চিত্র পরিচালক। তবে সময়ের স্রোতে বিলীন হতে বসা সেই ইতিহাস ও কিংবদন্তী নারীকে এবার সেলুলয়েডের পর্দায় ফিরিয়ে আনতে চলেছেন টলিউডের ‘কুইন’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনের প্রযোজনায় এবং নবাগত পরিচালক অতনু রায়ের পরিচালনায় তৈরি হতে চলেছে নতুন বায়োপিক বাংলা ছবি ‘ফাতমা’।
ছবিতে ফাতিমা বেগমের নামভূমিকায় পর্দায় ধরা দেবেন ঋতুপর্ণা। পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক অতনু রায় এই ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন।
১৯২৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ফাতিমা বেগম পরিচালিত ঐতিহাসিক সিনেমা ‘বুলবুল-এ-পারিস্তান’। সেই কালজয়ী সৃষ্টির ঠিক ১০০ বছর পূর্তি বা শতবর্ষ উদযাপনে তৈরি হচ্ছে এই ছবি। তবে নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘ফাতমা’ স্রেফ আর পাঁচটি সাধারণ বায়োপিক নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতীয় সিনেমার এক বিস্মৃত ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে নতুন করে তুলে ধরার প্রয়াস।
১৯০০ সালে তৎকালীন বম্বেতে পা রাখেন ফাতিমা বেগম। শুরুতে অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করলেও খুব কম সময়ের মধ্যেই নিজের অদম্য জেদে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফাতিমা ফিল্মস’ নামের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ও স্টুডিও। সেখান থেকেই তিনি নির্মাণ করেন ‘বুলবুল-এ-পারিস্তান’। শতবর্ষ আগের সেই ছবিতে তিনি ব্যবহার করেছিলেন হাতে তৈরি অপটিক্যাল ট্রিকস, মিনিয়েচার সেট এবং হাতে ঘোরানো ক্যামেরার মতো বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত কৌশল। পরবর্তীতে তাঁর কন্যা জুবেইদাও রুপোলি পর্দার প্রথম সারির তারকা হয়ে ওঠেন।
তবে ফাতিমা বেগমের জীবনের গল্প শুধু সাফল্যের নয়, বরং চরম ট্র্যাজেডিরও। কালক্রমে তাঁর স্বাধীন স্টুডিওটি ভেঙে পড়ে এবং আগুনে পুড়ে পুরোপুরি ছাই হয়ে যায় তাঁর ঐতিহাসিক নাইট্রেট ফিল্মের সমস্ত রিল। নির্বাক চলচ্চিত্র থেকে সবাক চলচ্চিত্রের যুগে পদার্পণের সেই রোমাঞ্চকর ও বেদনাদায়ক পুরো সময়কালটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে ‘ফাতমা’ ছবিতে।