অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স চলাকালীন মারাত্মক ভুল করছেন না তো? অন্ত্রের ক্ষতি এড়াতে অবশ্যই মানুন এই টিপসগুলি

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যে অনুচিত, সে বিষয়ে সচেতন চিকিৎসকমহল বরাবরই সতর্ক করে থাকে। কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের অভ্যাস ভবিষ্যতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, চিকিৎসক যখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেন, তখন কি ওষুধ খাওয়ার সময় কোনো বিশেষ নিয়ম মেনে চলা জরুরি?
প্রখ্যাত ব্রিটিশ চিকিৎসক ও টেলিভিশন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আমির খান সম্প্রতি এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সচেতনতামূলক ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র শরীরের ক্ষতিকর সংক্রমণের জীবাণুকেই ধ্বংস করে না, পাশাপাশি আমাদের অন্ত্রের (Gut) ভেতরে থাকা উপকারী এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও নষ্ট করে দেয়। এর জেরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় বা কোর্স চলাকালীন ডায়ারিয়া বা পেটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের এই ক্ষতি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে ৫টি দারুণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
১. প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়
ডাঃ খানের প্রথম এবং প্রধান পরামর্শ হলো—কখনোই নিজে নিজে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন, সর্দি বা হাঁচি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। একমাত্র গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে অন্ত্র ছাড়াও যোনি (Vagina) ও ত্বকের মাইক্রোবায়োম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২. খাদ্যতালিকায় প্রিবায়োটিক খাবার বাড়ান
অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স চলাকালীন এবং কোর্স শেষ হওয়ার পরেও অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রিবায়োটিক খাবার দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রিবায়োটিকগুলি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই উদ্দেশ্য ডায়েটে রসুন, পেঁয়াজ ও পাকা কলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. খান।
৩. নিয়মিত প্রোবায়োটিক খাবার খান
প্রিবায়োটিকের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার রাখাও আবশ্যিক। প্রোবায়োটিক অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সরাসরি সাহায্য করে। এর জন্য আপনি নিয়মিত টক দই, ঘোল, কিংবা কিমচির মতো ফার্মেন্টেড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
৪. রঙিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ খাবার খান
খাবারে যত বেশি বৈচিত্র্য থাকবে, শরীর তত বেশি পুষ্টি পাবে। ডা. খান বিভিন্ন রঙের টাটকা শাকসব্জি ও ফল খাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। খাবারের থালায় রঙের বৈচিত্র্য ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকলে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ পাওয়ার পাশাপাশি ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলোর বৃদ্ধিতেও বিশেষ সাহায্য করে।
৫. প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটান
অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবায়োম সারিয়ে তুলতে বা রি-স্টোর করতে পরিবেশের ভূমিকা রয়েছে বলেই মত এই ব্রিটিশ চিকিৎসকের। খোলা আকাশের নিচে বা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, কিংবা বাগান করার মতো ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে আমরা নানা ধরনের উপকারী প্রাকৃতিক মাইক্রোবায়োমের সংস্পর্শে আসতে পারি, যা পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। তাই শরীর কিছুটা সুস্থ বোধ করলেই প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না। পাশাপাশি ডায়ারিয়া বা পেটের গণ্ডগোল মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।)