জানুয়ারি থেকেই বেকারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩০০০ টাকা? রাজ্য সরকারের ‘ভরসা’ প্রকল্প নিয়ে বিরাট ধামাকা!

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের পথে কিছুটা স্বস্তি জোগাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে চালু হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘ভরসা’ প্রকল্প। অতি সম্প্রতি এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রস্তাবিত ‘ভরসা’ প্রকল্পে চূড়ান্ত সিলমোহর বা অনুমোদন দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পেলেই ২০২৭ সালের শুরু থেকেই এই ভাতার সুবিধা পেতে শুরু করবেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা, যা নিঃসন্দেহে রাজ্যজুড়ে যুবসমাজের মুখে দারুণ আশার আলো ফুটিয়েছে।
সরকারি তথ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্য বা বেকার ভাতা দেওয়া হবে। যে সমস্ত আবেদনকারী স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাঁরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে, যাঁরা ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস করেছেন কিন্তু এখনও স্নাতক স্তর সম্পূর্ণ করতে পারেননি, সেই সকল যোগ্য আবেদনকারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের যোগ্যতা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি রাজ্যের যেকোনো যোগ্য বেকার যুবক-যুবতী এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের জন্য পারিবারিক বার্ষিক আয় বাধ্যতামূলকভাবে ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে এবং আবেদনকারী যেন অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা না পান, সেই বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নতুন বছরের শুরু থেকেই অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও কৌতূহল লক্ষ করা যাচ্ছে।
তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা। সরকারের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই সম্ভাব্য আবেদনকারীদের তাঁদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার আসল বা প্রোভিশনাল শংসাপত্র, হালনাগাদ করা ব্যাঙ্ক পাসবুক, সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে এই নথিগুলি গুছিয়ে রাখলে আবেদন শুরু হতেই কোনো রকম প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই সহজে সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া সম্ভব হবে।