বারাণসী থেকে নয়া দিল্লি মাত্র কয়েক ঘণ্টায়! উত্তরপ্রদেশে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন যোগী!

ভারতীয় রেলওয়ের মুকুটে আরও একটি নতুন এবং স্বর্ণোজ্জ্বল পালক যুক্ত হলো। উত্তরপ্রদেশের মাটিতে আধুনিক ও বিশ্বমানের রেলযাত্রার এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন’ (Vande Bharat Sleeper Train)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় ক্ষেত্র তথা ঐতিহাসিক বারাণসী থেকে এই হাই-স্পিড স্লিপার ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে উপস্থিত থেকে এই ফ্ল্যাগশিপ ট্রেনটির শুভ উদ্বোধন করেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, তাক লাগানো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধায় পরিপূর্ণ এই ট্রেনটি বারাণসী এবং নয়াদিল্লির মধ্যবর্তী যাতায়াত ব্যবস্থাকে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেল মন্ত্রক ও উত্তরপ্রদেশ সরকার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই স্লিপার ট্রেনটি সাধারণ দূরপাল্লার ট্রেনগুলির তুলনায় যাত্রীদের অনেক কম সময়ে এবং অত্যন্ত আরামদায়কভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। ট্রেনটিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্রেক সিস্টেম, অটোমেটিক এন্ট্রি-এক্সিট গেট, বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং যাত্রীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য সর্বাধুনিক কবচ (Kavach) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে বিমান ভ্রমণের সঙ্গে তুলনা করা চলে। যাত্রীদের দীর্ঘপথের ক্লান্তি দূর করতে এবং রাতের ঘুমকে আরামদায়ক করতে এর বার্থ ও কুশনগুলোর বিশেষ নকশা করা হয়েছে।

এই স্লিপার ট্রেনটিতে এসি ফার্স্ট ক্লাস (AC 1 Tier), এসি টু টায়ার (AC 2 Tier) এবং এসি থ্রি টায়ার (AC 3 Tier)—এই তিনটি আধুনিক শ্রেণীর কোচ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কোচে যাত্রীদের তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য উন্নত এসি ভেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট, রিডিং লাইট এবং প্রতিটি বার্থে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য সুন্দর কার্টেনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশেষ টয়লেট এবং হুইলচেয়ারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেল আধিকারিকরা এই ট্রেনটিকে ‘ভারতের রেল ব্যবস্থার ভবিষ্যতের রূপরেখা’ বলে অভিহিত করেছেন। বারাণসী ও দিল্লির মতো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে এই স্লিপার ট্রেন চালু হওয়ায় পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। বারাণসীর পবিত্র ভূমি থেকে শুরু হওয়া এই আধুনিক রেল পরিষেবা ভারতের পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশ্বমঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। রেলপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই ট্রেনকে ঘিরে এখন থেকেই দারুণ উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।