সরকারি চাকরির ফাঁদ পেতে গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক অত্যাচার! পুলিশের জালে ভুয়া অফিসার অভিষেক দুবে

বিহারের রাজধানী পটনা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, লজ্জাজনক এবং লোমহর্ষক প্রতারণা ও ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে একটি গোপন গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ভণ্ড পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে সুরাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সমস্ত বিবরণ এবং পুলিশি অভিযানের রোমহর্ষক কাহিনী যে কাউকে অবাক করে দেবে। খাগাউল থানায় পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা তাঁর মেয়েকে নিয়ে ডেন্টাল চেকআপ বা দাঁতের চিকিৎসা করিয়ে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসের মধ্যে তাঁদের পাশের আসনেই বসা ছিল এক ধূর্ত যুবক। সে সুকৌশলে কথোপকথন শুরু করে এবং নিজেকে বিহার পুলিশের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। পরিবারটির আস্থা অর্জনের জন্য সে নিজের মোবাইল ফোনে উর্দিধারী কিছু তরুণীর ছবিও প্রদর্শন করে। বিশেষ করে তার পায়ের লাল জুতো ও মোজা দেখে মহিলাটি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন যে সে সত্যিই পুলিশের কেউ। সে কিশোরীটিকে পুলিশ বিভাগে খুব সহজেই সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পাকা প্রতিশ্রুতি দেয়।
অভিযুক্তের মিষ্টি কথায় ও ভুয়া পরিচয়ে প্রভাবিত হয়ে ওই মহিলা তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গত ২৫ অক্টোবর নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। এরপর অত্যন্ত সুচারুভাবে চক্রান্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি কাগজপত্র ফটোকপি করানোর অজুহাতে কিশোরীর ভাইকে সেখান থেকে দূরে পাঠিয়ে দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সে ভুক্তভোগী নাবালিকাকে দাদান হান্ডি রোডের একটি নিরিবিলি গেস্ট হাউসে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাওয়া পরিবারটি পরবর্তীতে খাগাউল থানায় গিয়ে একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ অবিলম্বে পকসো আইনে মামলা রুজু করে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ওই গেস্ট হাউসের পরিচালক অঙ্কিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
এদিকে মূল অভিযুক্ত অভিষেক দুবে ওরফে রাকেশ দুবে—যে রোহতাস জেলার চেনারি এলাকার নিবাসী—ঘটনার পরেই গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে পাকড়াও করতে খাগাউল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রঞ্জন কুমারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠিত হয়। কারিগরি বা টেকনিক্যাল সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে অপরাধী বর্তমানে গুজরাটের সুরাট জেলার ইছাপুর থানা এলাকার তপোভন সোসাইটিতে লুকিয়ে রয়েছে। এরপরই বিহার পুলিশের একটি চৌকস দল গুজরাটে পাড়ি দেয়।
অভিযুক্তকে ধরতে যে অপারেশন চালানো হয়, তা কোনো ক্রাইম থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম ছিল না। সুরাটে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তের সঠিক অবস্থান ও গতিবিধি নিশ্চিত করতে এসআই সঞ্জীব কুমার এবং এসআই সিদ্ধার্থ কুমার অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। টানা দু’দিন ধরে তাঁরা ওই সোসাইটির অলিগলিতে সাধারণ শ্রমিকের বেশে ঘুরে অপরাধীর ওপর নজরদারি চালান। জানা যায়, অভিষেক অতীতে গুজরাটে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করেছিল, যার ফলে তার চালচলনে পুলিশের ভনিতা বজায় থাকত। অবশেষে সুযোগ বুঝে শ্রমিকের ছদ্মবেশেই পুলিশ তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।