মোদী সরকারের ১টি ভুলেই চটলেন মূল ভোটাররা! রাম মন্দিরের অনুদান বিতর্ক ও UGC আইনের গ্যাঁড়াকলে ব্যাকফুটে বিজেপি?

কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দুটি সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তাদের নিজস্ব চিরাচরিত সমর্থক ও মূল ভোটব্যাঙ্কের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। প্রথমত, রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদানের অর্থ তছরুপের গুরুতর অভিযোগ এবং দ্বিতীয়ত, বিতর্কিত ‘ইউজিসি প্রবিধানমালা ২০২৬’। অযোধ্যার রাম মন্দিরের জন্য যে অগণিত সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের সঞ্চয় দান করেছিলেন, এই অনুদান তছরুপের অভিযোগে তাঁরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নতুন নিয়মাবলী সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণীর (General Category) যুবকদের ভবিষ্্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

মূলত পিছিয়ে পড়া ও দলিত ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতেই কেন্দ্র সরকার এই নতুন নিয়ম সামনে এনেছিল। তবে এই নীতিমালায় সাধারণ শ্রেণীর ওপর চরম বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ‘ইউজিসি (উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতার প্রচার) প্রবিধানমালা ২০২৬’-এর ধারা ৩(১)(সি)-এর অধীনে কেবল তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এই নতুন বিধিতে প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সম সুযোগ কেন্দ্র’, ২৪/৭ ‘ইকুয়ালিটি হেল্পলাইন’, গোপনীয় অভিযোগ পোর্টাল এবং নজরদারির জন্য কঠোর ‘ইকুইটি স্কোয়াড’ গঠনের কথা বলা হয়। কিন্তু সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, সমতা কমিটিতে সাধারণ শ্রেণীর কোনো প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি এবং মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই চরম একতরফা নজরদারি ব্যবস্থা এবং বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়। বিতর্ক চরমে উঠলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট এই নতুন প্রবিধানমালার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে এবং সংবেদনশীলতা বজায় রেখে ২০১২ সালের পুরনো প্রবিধানমালা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করার নির্দেশ দেয়।

বর্তমানে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছেন যে, সরকার নিয়মগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করছে। উত্তর প্রদেশসহ পাঁচটি রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের মূল ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করা এবং নতুন ভোটব্যাঙ্ক গড়ার লড়াইয়ে কেন্দ্র এখন চরম উভয়সংকটে পড়েছে।