দীপাবলির উপহার দেওয়া-নেওয়াই কি দিল্লির বিষাক্ত বাতাসের আসল খলনায়ক? সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে শোরগোল!

রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন এক চরম রূপ ধারণ করেছে। বিষাক্ত ও ভারী বাতাসে প্রতিনিয়ত নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে দিল্লির সাধারণ বাসিন্দাদের। এই পরিস্থিতিতে দীপাবলির উপহার দেওয়া-নেওয়ার সামাজিক প্রবণতাকেই রাজধানীর লাগামহীন বায়ুদূষণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বার্ষিক পরিবেশ দূষণ রোধ করতে অবিলম্বে সমাজের মানসিকতায় এক গভীর ‘সাংস্কৃতিক পরিবর্তন’ প্রয়োজন বলে কড়া মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির সময় তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী শ্রেণির হাত ধরে দীপাবলির উপহার আদান-প্রদানের এই সংস্কৃতি এখন কেবল সামাজিক প্রতিপত্তি ও মর্যাদা প্রদর্শনের এক অনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার দিল্লির সামগ্রিক বায়ুগুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) কার্যত অত্যন্ত গুরুতর ও বিপজ্জনক মাত্রার দোড়গোড়ায় গিয়ে পৌঁছায়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরই শীর্ষ আদালতের তরফে এই তাৎপর্যপূর্ণ ও চোখ খুলে দেওয়ার মতো মন্তব্য আসে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন রাজধানীতে সামগ্রিক গড় বায়ুগুণমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ভয়াবহ ৩৮৯। যদিও শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তা ইতিমধ্যেই ৪০০-র গণ্ডি অনায়াসে ছাড়িয়ে গিয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর উদযাপিত হতে চলা দিওয়ালি উৎসবের মরসুমে গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লির প্রধান বাজারগুলিতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বায়ুদূষণের মূল সমস্যা কেবল দিল্লির নিজস্ব যানবাহনের বেপরোয়া সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং উৎসবের এই আনন্দঘন সময়ে দেশের দূর-দূরান্তের রাজ্যগুলি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাজধানীতে প্রবেশ করছে, যেগুলির পরিবেশগত ফিটনেস বা সেখান থেকে কী পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি চালানো বা তা পর্যবেক্ষণ করা প্রশাসনের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশগত এই চরম অবনতির কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পরিস্থিতি আজ সম্পূর্ণভাবে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন গাড়িগুলি শহরে এসে ঢুকছে। সেই সমস্ত যানের সামগ্রিক ফিটনেস পরীক্ষা করা বা তাদের নির্গমন মাত্রা মাপার কোনো কার্যকর উপায় আমাদের হাতে নেই। এমন কোনো বহিরাগত গাড়ি যদি মাত্র দু’ঘণ্টার জন্যও রাজধানীতে প্রবেশ করে, তবে পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার তা ইতিমধ্যেই হয়ে যাচ্ছে।” আদালতের এই কড়া বার্তার পর পরিবেশবিদরা মনে করছেন, উৎসবের আনন্দের মাঝে অতিরিক্ত ভোগবাদ ও যথেচ্ছ কার্বন নিঃসরণ বন্ধ না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।