প্রশাসনের চোখকে ধুলো দিয়ে দেদার বিক্রি! বারুইপুর পুলিশের মেগা রেডে বাজেয়াপ্ত বিশাল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি

প্রশাসনের কঠোর নির্দেশকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির এক বড় চক্রের সন্ধান মিলল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি না করার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হলেও, সেই আদেশকে উপেক্ষা করেই বাজারের ভেতরে দিব্যি প্রকাশ্যে চলছিল নিষিদ্ধ শব্দবাজির রমরমা কারবার। সবুজ বাজির আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল নিষিদ্ধ শব্দবাজি এবং দেদার বিক্রিও চলছিল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাড়াল বাজারে আচমকা এক বিশাল অভিযান চালায় বারুইপুর পুলিশ জেলার একটি বিশেষ দল। পুলিশের এই আকস্মিক ঝটিকা অভিযানে মোট প্রায় ২০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার করা হয়েছে, যা কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার একটি বিশেষ টিম আচমকাই হাড়াল বাজারে গিয়ে উপস্থিত হয়। এই হাই-প্রোফাইল অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস, বারুইপুরের এসডিপিও অনুপ্রিয়া চৌধুরী এবং বারুইপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্র সহ পুলিশের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। বাজারে ঢুকেই পুলিশ দল বিভিন্ন বাজির দোকানে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। আর সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। দোকানের ভেতর সবুজ বাজির সুনির্দিষ্ট মোড়কের আড়ালেই প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ শব্দবাজি। দোকানে সাজিয়ে রাখা সেই সমস্ত বিপজ্জনক শব্দবাজি নিজ চোখে দেখে কার্যত অবাক হয়ে যান উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা। এরপর কালক্ষেপ না করে দ্রুত সেই সমস্ত অবৈধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আজকের এই আকস্মিক অভিযানে আনুমানিক প্রায় ২০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে কেবল বাজি উদ্ধার করেই ক্ষান্ত থাকেনি পুলিশ, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অত্যন্ত কড়া ভাষায় চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই ধরনের বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুলিশ আধিকারিকরা। আগামী দিনেও যদি এই ধরনের বেআইনি কারবার অব্যাহত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি চিরতরে বন্ধ করতে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছি। বৃহস্পতিবার হাড়াল বাজারে প্রায় ২০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও একাংশ সেই নির্দেশ মানছেন না। তাঁদের আগেও সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারপরেও একই ধরনের বেআইনি কাজ চলতে থাকায় এবার আমরা আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পাশাপাশি, এই ধরনের অভিযানে আতশবাজি ব্যবসায়ী সমিতিও পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আতশবাজি ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকেও নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। সমিতির বিশিষ্ট সদস্য অজয় চক্রবর্তী এ বিষয়ে মুখ খুলে বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এই সমস্ত বাজি বাজার পরিচালিত হয়। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি করছেন। তাঁদের এই হীন কাজের জন্য গোটা ব্যবসায়ী সমাজের বদনাম হচ্ছে। আমাদের সমিতির স্বেচ্ছাসেবকরাও নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে বাজি উদ্ধার ও তা নষ্ট করার মহৎ উদ্যোগ নিচ্ছেন।” এই বেআইনি কারবার দমনে তাঁরা সর্বতোভাবে প্রশাসনের পাশে রয়েছেন বলেও জোরালো বার্তা দিয়েছেন অজয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর চম্পাহাটিতে প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনে এই আতশবাজির বাজার বসে থাকে। সেখানে পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি বিক্রির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হলেও কিছু লোভী অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির গুরুতর অভিযোগ লেগেই থাকে। এবার সেই বেআইনি প্রবণতা কঠোর হাতে রুখতে আরও অনেক বেশি তৎপর হয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলা। অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাসের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, “কোনও অবস্থাতেই কাউকে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে এবং আমাদের এই অভিযান লাগাতার চলবে।” সব মিলিয়ে, উৎসবের এই মরশুমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ বাজির কারবার পুরোপুরি নির্মূল করতে হাড়াল বাজারে পুলিশের এই அதிரডি অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তার পরেও কীভাবে এতদিন প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি চলছিল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার আগামী দিনে এই ধরনের অবৈধ কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।