“সব প্রমাণ আমার হাতে!” কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার বিস্ফোরক তোপ, রুদ্ধদ্বার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় শিরোনামে থাকা তরুণ বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে এবার দলীয় মহলের একাংশ থেকেই চরম দুর্নীতির ও তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর এই হাই-ভোল্টেজ বিতর্কের মাঝেই একেবারে ওড়িশার পবিত্র তীর্থভূমি পুরী থেকে একটি বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে এনেছেন খোদ কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই পালটা ভিডিও বার্তা ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যখন বিজেপির একাংশের নেতারা প্রকাশ্যেই বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তোলা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনতে শুরু করেন। দলের অভ্যন্তরে এহেন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে যায় বিরোধী শিবির। দলীয় শৃঙ্খলা ও নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আর চুপ থাকেনি কৌস্তভ। সরাসরি পুরী থেকে একটি সুদীর্ঘ ভিডিওবার্তা রেকর্ড করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ভিডিওতে কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত চ্ছলতার সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যাঁরা আজ তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির কাল্পনিক অভিযোগ আনছেন, তাঁদের কাছে এর স্বপক্ষে কোনো ठोस বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে কি না। তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলেরই একটি বিক্ষুব্ধ অংশ তাঁর বিরুদ্ধে এমন কুরুচিকর কুৎসা রটানোর খেলায় নেমেছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কোনোদিন অনৈতিক কাজের সঙ্গে আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।

এদিকে, কৌস্তভের এই সাফাইয়ের পরেও বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বঙ্গ বিজেপির অন্দরে অন্তর্কোন্দল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে চরমে পৌঁছেছে, এই ঘটনা তারই এক সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে জনসমক্ষে বিধায়কের বিরুদ্ধে এহেন গুরুতর তোলাবাজির অভিযোগ তোলার পর রাজ্য নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের। পুরীর সমুদ্র সৈকত থেকে পাঠানো কৌস্তভের এই রাজনৈতিক বার্তা বঙ্গ রাজনীতিতে আগামী দিনে কোন নতুন মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।