বেঙ্গালুরুতে নারকীয় তাণ্ডব! শিলনোড়া দিয়ে থেঁতলে স্ত্রী ও শাশুড়ি সহ পরিবারের ৭ সদস্যকে হত্যা!

বেঙ্গালুরুতে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সামান্য পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক, দুই জা ও এক নিষ্পাপ শিশুসহ পরিবারের মোট সাতজন সদস্যকে শিলনোড়া দিয়ে থেঁতলে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। খুনের দু’দিন পর এই হাড়হিম করা ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ক্যাব চালককে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’দশক আগে সুনীতার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইন্দুশেখরের। রাজাজিনগরের কাছে দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও ইদানীং স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজনের প্রতি চরম আক্রোশ তৈরি হয়েছিল অভিযুক্তের। স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে যেতে বাধা দেওয়া এবং সন্দেহ করার কারণে পারিবারিক অশান্তি তুঙ্গে ওঠে। নিজের জীবনের সমস্ত ব্যর্থতা ও সমস্যার জন্য শাশুড়ি রূপাবতী, স্ত্রী সুনীতা, শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্কর, দুই শ্যালকের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং নাতি পুনীতকেই দায়ী করতে শুরু করে ইন্দুশেখর। এরপরেই ঠান্ডা মাথায় সবাইকে একে একে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নারকীয় পরিকল্পনা ছকে সে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে নিজের স্ত্রীকে শিলনোড়া দিয়ে সজোরে আঘাত করে খুন করে ইন্দুশেখর। এরপর দেহটি নন্দী হিলসের নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়ে এসে প্রতিবেশীদের গল্প দেয় যে স্ত্রী বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেছেন। সন্দেহ এড়াতে ফোনও বন্ধ করে রাখে। এরপর অত্যন্ত সুচতুরভাবে দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে বাড়িতে ডেকে এনে মদ্যপানের আসর বসায় এবং সুযোগ বুঝে তাঁদেরও একই কায়দায় শিলনোড়া দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। একে একে শাশুড়ি রূপাবতী, দুই জা দিব্যা ও নলিনী এবং এক নিষ্পাপ শিশু পুনীতকেও একইভাবে নৃশংসভাবে শেষ করে দেয় অভিযুক্ত।
ঘটনার পর রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝের দাগ কেমিক্যাল দিয়ে পরিষ্কার করে এবং যে শিলনোড়া দিয়ে ৭ জনকে হত্যা করা হয়েছিল, সেটি রাসায়নিক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালায়। নিহত নলিনীর মায়ের দায়ের করা এক নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বেঙ্গালুরু পুলিশ এই ভয়াবহ সত্য উদঘাটন করে। ইতিমধ্যে ঘাতক গাড়ি ও রক্তমাখা জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নর্থ ডিভিশনের ৩ জন এসিপির নেতৃত্বে তৈরি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে শিশু পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে, তবে বাকিদের লাশের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।