পুলিশের দাদাগিরি বন্ধ! আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে না তুললেই মুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

নাগরিক অধিকার রক্ষা ও পুলিশি হেফাজতে অতিরিক্ত আটকে রাখার প্রবণতা রুখতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে আটক করার পর তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা গণনা শুরু হবে ঠিক যে মুহূর্তে তাঁকে আটক করা হয়েছে সেই সময় থেকে— অনঅফিশিয়ালি বা নথিপত্রে গ্রেফতার দেখানোর সময় থেকে নয়।
১. আটকের মুহূর্ত থেকেই শুরু ২৪ ঘণ্টার কাউন্টডাউন
বৃহস্পতিবার বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে আনা বাধ্যতামূলক। কেবল গ্রেফতারের স্থান থেকে আদালতে পৌঁছানোর যাতায়াতের সময়টুকু ছাড়া অন্য কোনো অজুহাতেই এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে না।
২. কাগজের অজুহাতে পুলিশি হেফাজত নয়
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নথিপত্র তৈরি বা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বাহানায় আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার না দেখিয়ে কাউকেই দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা যাবে না। কারণ, সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার কখনোই স্থগিত করা যায় না। ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আটকের সুনির্দিষ্ট সময় ও তারিখ পরীক্ষা করে তবেই যেন পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
৩. ত্রিপুরার এনডিপিএস মামলায় বড় সিদ্ধান্ত
ত্রিপুরায় এনডিপিএস (NDPS) আইনের অধীনে চারজন অভিযুক্তের জামিন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত হয়। জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টোয় তল্লাশির সময় তাঁদের আটক করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল তার পরদিন সকাল ১১টায়।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের আগেই প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিচারবিভাগীয় নজরদারি ছাড়া হেফাজতে রাখা সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। এই যুক্তিতেই শীর্ষ আদালত ত্রিপুরা হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত খারিজ করে চার অভিযুক্তকেই অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে অন্যায় অত্যাচার রুখতে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞেরা।