১২ ঘণ্টা কাজের পরেও শান্তি নেই! লগআউট করায় ফ্রেশারকে যা শোনালেন বস, চ্যাট ভাইরাল হতেই তুঙ্গে বিতর্ক

কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজের চাপ এবং কাজের ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক যেন থামার নাম নিচ্ছে না। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের এক আইটি ফ্রেশারের সঙ্গে ঘটা এমনই এক ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র পাঁচ মাস আগে চাকরি শুরু করা এক তরুণ কর্মী ১২ ঘণ্টা একটানা কাজ করার পর লগ আউট করায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রোষানলে পড়েন। এই ঘটনার সম্পূর্ণ চ্যাট ইন্টারনেটে প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
জানা গেছে, ওই কর্মী গত পাঁচ মাস ধরে একটি কঠিন প্রকল্পে পূর্ণকালীন আইটি পেশাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। কাজের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে তাঁকে প্রায়শই উইকএন্ড বা ছুটির দিনগুলিতে এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। তিনি একা হাতে প্রকল্পটি এমন দক্ষভাবে সামলাচ্ছিলেন যে তার সিনিয়রকে অন্য আরেকটি প্রকল্পের দায়িত্বও দিতে হয়েছিল।
আসলে সেদিন কী ঘটেছিল?
কর্মীর বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রজেক্টে একটি বড় কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে শনি, রবি এবং সোমবার টানা সারারাত কাজ করতে হয়। বহু চেষ্টার পর টিম সেই বড় সমস্যার সমাধানও করে। তবে একটি ছোটখাটো ত্রুটি বাকি ছিল, যা পরের দিন সকালে অনায়াসেই সমাধান করা সম্ভব ছিল।
ওইদিন সকাল ১০টা থেকে কাজ শুরু করে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ক্লায়েন্টের সমস্ত জরুরি অনুরোধ মেটানোর পর তিনি লগ আউট করেন। এরপর ছোট একটি সমস্যা দেখা দিলে তিনি অনলাইনে না থাকায় তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারেননি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাকে মেসেজ পাঠিয়ে তিরস্কার শুরু করেন।
কর্মীর মোক্ষম জবাব
সাধারণত বসের প্রশংসাই করে থাকেন ওই কর্মী, কিন্তু এদিনের ব্যবহারে তিনি গভীরভাবে হতাশ হন। বস মেসেজে লেখেন যে তিনি কর্মীর কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি এবং লগ আউট করার আগে জানিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
এর জবাবে ওই কর্মী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি সব সময় কাজের জন্য আক্ষরিক অর্থেই হাজির থাকতে পারবেন না। তিনি লেখেন, ক্লায়েন্টের অতিরিক্ত যত্ন নিতে গিয়ে তিনি নিজের খাওয়া, গোসল, ঘুম ও স্বাস্থ্যকে বলিদান দিতে পারেন না। তাকেও সুস্থ থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নিতে হয়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে তিনি খুব ভোরে কাজ শুরু করতে পছন্দ করেন, তাই সময়মতো ঘুমাতে যাওয়া তার জন্য জরুরি।
পুরো সপ্তাহান্ত এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার পরেও বসের এমন আচরণে নিজেকে আর সঠিক প্রমাণ করার তাগিদ অনুভব করেননি বলে জানান ওই তরুণ। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত তার সিনিয়রকে সম্মান জানান এবং কোম্পানি যদি তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তা মাথা পেতে নেবেন বলেও জানান। এই ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।