সরকারি কর্মচারীদের মুখে চওড়া হাসি! নতুন প্রকল্প ‘Salary Advance Scheme’-এ কীভাবে পাবেন সুদমুক্ত টাকা?

রাজ্য সরকারি कर्मचारियों জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক স্বস্তির খবর নিয়ে এল নবান্ন। মাসের শেষে কিংবা হঠাৎ তৈরি হওয়া পারিবারিক আর্থিক অনটন মেটাতে আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না সরকারি চাকুরিয়াদের। মাসের বেতন অ্যাকাউন্টে ঢোকার আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী টাকার অগ্রিম তুলে নেওয়ার এক বিশেষ সুযোগ চালু করা হলো। মঙ্গলবার অর্থ দফতরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের নাম রাখা হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’ (West Bengal Salary Advance Scheme)।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
অর্থ দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত নিয়মিত স্থায়ী সরকারি কর্মীরা এই নতুন প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি—চাকরির যে পদেই থাকুন না কেন, সমস্ত বিভাগের কর্মচারীদের জন্যই এই অগ্রিম বেতনের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।
মূলত হাসপাতালে চিকিৎসাজনিত আপৎকালীন পরিস্থিতি, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো, পারিবারিক জরুরি কাজ কিংবা আচমকা সামনে আসা যেকোনো আর্থিক সংকট থেকে কর্মীদের রক্ষা করতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় রাজ্য সরকারের এই সংবেদনশীল উদ্যোগ।
কীভাবে পাওয়া যাবে টাকা? কী নিয়ম প্রযোজ্য?
নতুন নিয়মে মূলত দুই ধরনের অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ রাখা হলেও, তার মধ্যে অত্যন্ত কার্যকরী হলো স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম বা শর্ট-টার্ম অ্যাডভান্স সুবিধা।
৫০ শতাংশ অগ্রিম: কোনো কর্মী তাঁর চলতি মাসের নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা অগ্রিম হিসেবে তুলে নিতে পারবেন।
বিনাসূদে ফেরত: অগ্রিম নেওয়া এই অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই অথবা তার পরবর্তী মাসের বেতনের সময় কেটে নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে টাকা মেটালে কর্মচারীকে কোনো অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে না।
নবান্নের এই অভিনব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। জরুরি দরকারের সময়ে এমন সুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা কর্মীদের প্রশাসনিক মানসিক চাপ অনেকটাই কমাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।