“দাউদ ইব্রাহিম নন টুলু!” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তোলপাড়, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দুবাই ছাড়ার চরম হুঁশিয়ারি!

দেশের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন! ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গোপন বাণিজ্য চুক্তি এবং আদানি ইস্যু নিয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সামনাসামনি বিতর্কের খোলা আহ্বান জানালেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও সাংসদ রাহুল গান্ধী। কেবল আহ্বান জানানোই নয়, অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে কোনো রকম ভয় না পেয়ে দ্রুত এই মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
বিতর্কের স্থান ও বিচারক পছন্দ করার স্বাধীনতা!
প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জায়গা আপনি পছন্দ করুন, আমি আপনাকে বিতর্কে অংশগ্রহণে আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি বলেন বিরোধীরা দেশদ্রোহী, আসলে কারা দেশদ্রোহী? কার সঙ্গে বিদেশি শক্তির গোপন আঁতাত রয়েছে? ভয় পাবেন না, তাড়াতাড়ি বিতর্কে আসুন। সংবাদমাধ্যমও উপস্থিত থাকবে।”
বিতর্কের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন যাতে না ওঠে, সে জন্য এক ধাপ এগিয়ে রাহুল বলেন, “টেবিলের একপাশে আপনি থাকবেন, অন্যপাশে আমি থাকব। এই বিতর্কসভার বিচারক হিসেবে আপনি যাকে খুশি নিয়ে আসুন, প্রয়োজনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকেই বিচারকের আসনে বসান!”
কোন কোন বিস্ফোরক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি?
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু হবে—
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি: যে চুক্তির বিষয়ে খোদ মন্ত্রিসভাকেও কেন বিস্তারিত জানানো হয়নি, সেই প্রশ্ন তোলা হবে।
আদানি ও এপস্টিন ইস্যু: শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক মামলার তদন্ত কেন হঠাৎ বন্ধ হলো এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের কেন্দ্রে থাকা ‘এপস্টিন’ ইস্যুর সঙ্গে সংযোগ—এসব বিস্ফোরক প্রশ্ন টেবিলে উঠবে।
দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা: দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আর্থিক হাল নিয়েও জবাবদিহি চাওয়া হবে।
“টুলু দাউদ ইব্রাহিম নন!” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দুবাই ছেড়ে ভারতে ফেরার নির্দেশ
নয়াদিল্লি: অন্যদিকে, কোটি কোটি টাকার বেআইনি কয়লা ও পাথর পাচার এবং দুর্গাপুরের আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনায় অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যবসায়ী জয়দেব মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলকে নিয়ে বড় নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দুবাই থেকে ভারতে ফিরতে হবে টুলু মণ্ডলকে।
আদালতে মুকুল রোহতগি ও তুষার মেহতার জোর সওয়াল-জবাব
টুলুর তরফে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতে দাবি করেন, “টুলু মণ্ডল দাউদ ইব্রাহিমের মতো কোনো আন্তর্জাতিক ডন বা বড় অপরাধী নন, আর তিনি দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে পালিয়েও যাননি। রাজ্য পুলিশ যদি কোনো কড়া পদক্ষেপ না করার আইনি রক্ষাকবচ দেয়, তবে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ভারতে ফিরবেন।”
এর তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য পুলিশের পক্ষে সওয়াল করেন দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এর পেছনে কোনো রাজনীতি নেই। টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার কয়লা-পাথর পাচার ও অপরাধচক্র চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”
ডিজিটাল তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট জমা পড়ার পর সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলুকে ভারতে ফিরতে হবে। তবে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো চরম বা কড়া পদক্ষেপ (যেমন গ্রেপ্তার) করতে পারবে না বলে সাময়িক আইনি সুরক্ষাও দিয়েছে আদালত।