অজিত পাওয়ারের প্রয়াণের পরই মেগা গৃহযুদ্ধ! অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর এনসিপিতে তোলপাড়, কাটল না কোন্দল

অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণের পর মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটের মুখে মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)। দলকে আগামী দিনে কে চালনা করবেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি কার সম্মতিতে নেওয়া হবে এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে দলের সম্পর্ক ঠিক কেমন হবে— এসব নিয়েই চরম ডামাডোল তৈরি হয়েছে দলটির অন্দরে।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতাদের হাই-প্রোফাইল বৈঠক এবং তার ঠিক পরপরই মুম্বইয়ে আয়োজিত কোর কমিটির জরুরি বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনীতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পার্থ পাওয়ারের একতরফা সিদ্ধান্তে প্রবীণ নেতাদের তীব্র অসন্তোষ: মুম্বইয়ে আয়োজিত কোর কমিটির বৈঠকে সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট ভাষায় পার্থ পাওয়ারের সাম্প্রতিক কিছু একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কোর কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই জিশান সিদ্দিকীকে দলের মুম্বই সভাপতি এবং উমেশ পাটিলকে জাতীয় মুখপাত্র পদে বসানো হয়েছে।
সিনিয়র নেতাদের কড়া বার্তা— দলের যাবতীয় বড় সিদ্ধান্ত সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বের সর্বসম্মত আলোচনার পরেই নিতে হবে। প্রবীণদের চরম ক্ষোভের মুখে পড়ে পার্থ পাওয়ার ও জয় পাওয়ার আশ্বাস দেন যে, আগামীতে সবার মতামত নিয়েই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অমিত শাহের কাছে অর্থ মন্ত্রক দাবি ও একীভূতকরণের বিরোধিতা: সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি নেতারা যত দ্রুত সম্ভব রাজ্য সরকারের অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁদের দলের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তারা স্পষ্টভাবে শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র সঙ্গে দল একীভূত (Merge) করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর দল তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে মহারাষ্ট্র সরকারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চায়।
শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র সঙ্গে জোড়া লাগা নিয়ে সুনেত্রা বনাম প্রফুল্ল প্যাটেল: বর্তমানে শরদ পাওয়ারের গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হওয়া নিয়ে দলের অভ্যন্তরে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে:
প্রবীণ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল চান দুই গোষ্ঠী ফের একত্রিত হোক।
কিন্তু অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এই একীভূতকরণের ঘোর বিরোধী। তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামীর দলকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে নিজের নেতৃত্বেই সামনে থেকে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগে দুই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা একত্রিত হওয়া নিয়ে চার বার গোপন বৈঠক করেছিলেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই বৈঠকের আলোচনার ভিত্তিতেই কি সুপ্রিয়া সুলে এবং সুনেত্রা পাওয়ারের ক্ষমতা ভাগাভাগি হবে, নাকি দুটি দল চিরতরে আলাদা পথেই হাঁটবে? মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আপাতত এনসিপি-র এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরম কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।