উড়বে কম উচ্চতায়, ধেয়ে যাবে ৫০০ কিমি দূরে! ডিআরডিও-র ‘প্রলয়’ মিসাইলের গুঁড়োয় কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর

প্রতিরক্ষা ও সামরিক স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী সাফল্য পেল ভারত। ওড়িশা উপকূলের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (চাঁদিপুর) থেকে সম্পুর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’ (Pralay Missile)-এর উড়ান পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)। পরীক্ষা চলাকালীন ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত নিখুঁত গতিপথ অনুসরণ করে এবং সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও সামরিক লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
শত্রুর এয়ার ডিফেন্সকে ফাঁকি দিতে সিদ্ধহস্ত: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রলয়’ সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ও বেশি বিপজ্জনক। এটি নির্দিষ্ট বা চিরাচরিত বায়ুপথে না গিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশ কম উচ্চতায় উড়তে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথেই এটি নিজের দিক পরিবর্তন (Maneuver) করতে সক্ষম। এর ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা রাডার একে চিহ্নিত করা তো দূর, এর গতিপথ অনুমান করতেই ব্যর্থ হবে। বিশ্বের খুব কম উন্নত দেশের হাতেই এমন অত্যাধুনিক ও চালবাজ প্রযুক্তি রয়েছে।
প্রলয় মিসাইলের মূল বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা:
রেঞ্জ ও শক্তি: সলিড প্রপেল্যান্ট চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিমেষে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অস্ত্র বা পেলোড কিছুটা কমিয়ে এর পাল্লা (Range) আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
ভার্সেটাইল ওয়ারহেড: ‘প্রলয়’ বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র বা ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা সীমান্ত এলাকায় যেকোনো সামরিক সংঘাতের সময়ে ভারতকে কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
উন্নত নেভিগেশন: এতে ব্যবহৃত হয়েছে ডিআরডিও-র সর্বাধুনিক গাইডেন্স ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, যা কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদে শতভাগ কার্যকর।
নিরাপত্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ: এই মেগা উড্ডয়ন পরীক্ষার আগে সুরক্ষার স্বার্থে ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন ৫৯৫ কিলোমিটার এলাকায় বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ‘নোটম’ (NOTAM) জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয় প্রশাসন।
আগেও সফল ইউজার ট্রায়াল পার করা ‘প্রলয়’-এর এই সাম্প্রতিক পরীক্ষা আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। সফল এই উড্ডয়ন মূল্যায়নের পর খুব দ্রুত ‘প্রলয়’ মিসাইলকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর।