মিডিয়া ট্রায়াল ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টেও বড়সড় ধাক্কা অভিষেকের! শীর্ষ আদালত দিল এমন নির্দেশ, তোলপাড় রাজনীতি

তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নেড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও মিলল না জরুরি ভিত্তিতে কোনো সুরাহা। মঙ্গলবার মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠাল শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এটি এমন কোনো জরুরি বিষয় নয় যে অবকাশকালীন বেঞ্চে (Vacation Bench) এখনই শুনানি করতে হবে।” আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দীপাবলির ছুটির পর কলকাতা হাইকোর্ট পুনরায় খুললে নিয়ম অনুযায়ী হাইকোর্টই এই মামলার পরবর্তী শুনানি গ্রহণ করবে।
আদালতে যুক্তির লড়াই ও আর্জির পরিবর্তন: এদিন অভিষেকের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী সোয়েব আলম প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সওয়াল করে আর্জি জানান, মামলাটিতে ‘জরুরি শুনানির প্রয়োজন’ সংক্রান্ত বক্তব্যটি যেন আদালতের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি তাতে সম্মতি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা ও কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তদন্তাধীন মামলার সংবেদনশীল তথ্য ও ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে, যা তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের জলঘোলা: পূর্বে কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি জানানো হলেও সেখানে গতি পাননি অভিষেক। প্রথমে হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলাটি তাঁর বিচার্য বিষয় নয় বলে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে মামলাটি যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তিনিও মামলাটির দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তা খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, নভেম্বর মাসে মামলাটি সাধারণ নিয়মে তালিকাভুক্ত করা হবে।
হাইকোর্টে দ্রুত সুরাহা না মেলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে না দেখে মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের হাতেই সোপর্দ করল।