প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের গায়েই গুলি! গ্রেটার নয়ডার চাঞ্চল্যকর কান্ডে ফাঁস পুলিশের সিসিটিভি জালে

প্রতিবেশীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর জন্য কত দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়? উত্তর প্রদেশ সংলগ্ন গ্রেটার নয়ডা থেকে এমন এক শিহরণ জাগানো ও অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনে হতবাক খোদ পুলিশও। শত্রুতা মেটাতে এক ব্যক্তি নিজেই নিজের গায়ে গুলি চালিয়ে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশের নিবিড় তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজের কল্যাণে এই নিখুঁত সাজানো নাটক একেবারে ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।
🔫 ছক কষে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই ফায়ার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেটার নয়ডার নাদারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হরেন্দ্র নগরের সঙ্গে তাঁর এক প্রতিবেশী বিকাশ সাইনের দীর্ঘদিন ধরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেই সামান্য রেষারেষির প্রতিশোধ নিতে এবং বিকাশকে চিরতরে আইনি জালে ফাঁসাতে এক ভয়ঙ্কর ফন্দি আঁটেন হরেন্দ্র।
পরিকল্পনা মতো তিনি তাঁর শ্যালক অতুল ভাটি এবং ভাগ্নে প্রতীক ওরফে কালুয়াকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। এরপর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একেবারে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরে গুলি করান ওই ব্যক্তি।
🚨 পুলিশের জেরায় ফাঁস আসল সত্য
নিজের গায়ে গুলি লাগানোর পরেই হরেন্দ্র সোজা থানায় হাজির হন। তিনি প্রতিবেশী বিকাশ সাইনের বিরুদ্ধে তাঁকে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু পুলিশ যখন ঘটনার তদন্তে নামে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআর (DVR) খতিয়ে দেখে, তখনই পুরো ঘটনাটির আসল সত্যতা সামনে চলে আসে। পুলিশ বুঝতে পারে, সম্পূর্ণ অভিযোগটিই ছিল একটি সাজানো নাটক।
👥 ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র
তদন্তে নেমে বিশাহাদা আন্ডারপাসের কাছ থেকে মূল অভিযুক্তের ছেলে অভিষেক নগর, শ্যালক অতুল ভাটি এবং ভাগ্নে প্রতীক ওরফে কালুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অতুল ভাটির বিরুদ্ধে পূর্বে মারধর, চুরি ও ডাকাতির মতো অন্তত সাতটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমনকি হরেন্দ্রর ভাই সত্যেন্দ্র ওরফে সাট্টেও ২০০৭ সালের একটি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। প্রতিবেশীকে শায়েস্তা করতে গিয়ে নিজেই এখন কারাগারে শ্রীঘরে যাওয়ার দোরগোড়ায় ওই কুচক্রী।