মাঝআকাশ থেকে ফিরল প্রেসিডেন্টের বিমান! ইউরোপীয় দেশে রাতারাতি ঘটে গেল একি কাণ্ড?

পোল্যান্ডে আবারও তীব্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশের সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি বোগদান স্বিয়েচকোভস্কি এবং তাঁর ডেপুটি বার্তলোমিয়েজ সোচানস্কিকে আচমকা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজধানী ওয়ারশ এখন অগ্নিগর্ভ। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আফ্রিকার দেশ সেনেগাল সফর বাতিল করে মাঝআকাশ থেকেই বিমান ঘুরিয়ে তড়িঘড়ি দেশে ফিরেছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবিধানিক আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিসে দুই শীর্ষ বিচারপতিকে এক মাসের জন্য বরখাস্তের ঘোষণা দেন প্রবীণতম বিচারপতি আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কি। তিনি আদালতের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে দাবি করেন, দেশে আইনের শাসন ফেরাতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে দেশজুড়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন। আদালতের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেই এই ঘটনাকে সরাসরি ‘বিচারবিভাগীয় অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই আদালতের বাইরে শুরু হয় বিরোধী ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’ (পিআইএস)-র হাজার হাজার সমর্থকের তুমুল বিক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের সরকারের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থা দখলের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে দেশে ফিরে প্রেসিডেন্ট নাভরোকি বরখাস্ত হওয়া বিচারপতির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন এবং সরাসরি আদালত ভবনে উপস্থিত হন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত পিআইএস সরকারের আমলে হওয়া বিচারবিভাগীয় নিয়োগ বাতিল করে আইনের শাসন ফেরাতে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী টুস্ক। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিচারপতির বিরোধিতায় সেই সংঘাত এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকেই বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।