ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারের পর একের পর এক বিস্ফোরক ফাঁস! এবার সোজা তোপ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়েছে। দলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিনোদন জগৎ ও সুশীল সমাজ—একে একে প্রত্যেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সুরেই এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ইন্দ্রনীল সেন যখন চন্দননগরের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন, তখন সেই এলাকায় কোনো সাধারণ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলেও তাঁর থেকে আলাদা করে ‘অনুমতি’ নিতে হতো। রচনা বলেন, “ইন্দ্রনীলের বিধানসভা কেন্দ্র চন্দননগরে ঢুকতে গেলে এবং সেখানকার কোনো সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত হতে গেলে ওঁর স্পষ্ট সবুজ সংকেত ছাড়া যাওয়া অসম্ভব ছিল।” তাঁর এই মন্তব্যের পর দলীয় অন্দরে প্রাক্তন মন্ত্রীর একচ্ছত্র প্রভাব ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিতে সরাসরি নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সুচেতন অত্যন্ত কড়া ভাষায় তোপ দাগেন ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ায় খুব আনন্দ হচ্ছে। উনি অত্যন্ত অসভ্য ও অহংকারী একজন মানুষ ছিলেন। নিজের জীবনের সমস্ত অপকর্ম ও পাপের ফল যেন এবার উনি হাড়কাঠে ভোগ করেন।”
সব মিলিয়ে, সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন প্রকাশ্যে আসছে নতুন নতুন কেলেঙ্কারি ও দমনপীড়নের তথ্য। তাঁর সহকর্মী থেকে বিরোধী দল, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা যেভাবে এখন একজোট হয়ে সরব হচ্ছেন, তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য রাজনীতি।