অফিসে ঢুকে সরকারি আধিকারিককে আক্রমণ! তুমুল হাঙ্গামার জেরে সবংয়ে গ্রেফতার অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী শান্তনু মিশ্র

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ে সরকারি কাজে বাধা দান এবং এক আধিকারিককে নিগ্রহ করার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রথম বা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কেন এখনও উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত পৌঁছয়নি, সেই কৈফিয়ত চাওয়ার অছিলায় সরকারি দপ্তরে ঢুকে এক আধিকারিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী শান্তনু মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন সবং ব্লকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন সরকারি আধিকারিক তপনকুমার শিট। সেই সময় বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে চড়াও হন অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী শান্তনু মিশ্র ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের মূল অভিযোগ ছিল, বহু গরিব মানুষ আবেদন করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর তৈরির সরকারি অনুদান বা আর্থিক সহায়তা পাননি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দপ্তরের ভেতরেই কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগের সুর চড়তে চড়তে তা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি ও শারীরিক নিগ্রহের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি আধিকারিক তপনকুমার শিটকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই আকস্মিক হামলায় ওই আধিকারিক গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পরই সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি কর্মীকে মারধরের সুনির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত আধিকারিক তপনকুমার শিট। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কালবিলম্ব না করে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী শান্তনু মিশ্রকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জেরা এবং তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাব গ্রেফতার দেখানো হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শাসক শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি কর্মীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পরিকল্পিতভাবে সরকারি আধিকারিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার এবং আবাস যোজনার বকেয়া টাকার দাবিতে সাধারণ মানুষ যখন প্রশ্ন করতে যান, তখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাদের দলের কর্মীকে ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমানে ধৃত বিজেপি কর্মীকে আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সমগ্র ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে সবং থানার পুলিশ।