পুনে ফেরত ২ ভাইয়ের হঠাৎ ধনী হওয়ার রহস্য উন্মোচন! ড্রামে ভর্তি ৫০০ টাকার বান্ডিল জব্দ করল পুলিশ

মাটির ৫ মিটার নিচে স্টিলের ড্রামে কোটি কোটি টাকা! প্রয়াগরাজে গুপ্তধনের মতো উদ্ধার বিপুল নগদ, তোলপাড় যোগী রাজ্য
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে যেন এক রূপকথার রহস্যময় ঘটনা বাস্তবে রূপ নিল! ঘরের মেঝে খুঁড়তেই মাটির গভীর থেকে উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার নগদ অর্থ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাটির প্রায় ৫ মিটার গভীর থেকে তিনটি বিশেষ স্টিলের ড্রামে ভরা এই বিপুল টাকা উদ্ধার করেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ড্রামের ভেতর কালো পলিথিনে মোড়ানো ৫০০ টাকার বান্ডিল!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াগরাজের নবাবগঞ্জ এলাকার বড়াইপুর গ্রামে ঘটে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। সেখানকার একটি সাধারণ বাড়ির ঘরের মেঝে খোঁড়া শুরু করে পুলিশ। প্রায় ৫ মিটার গভীরে পৌঁছানোর পর তিনটি ছোট স্টিলের ড্রাম বেরিয়ে আসে।
ড্রামগুলির ঢাকনা খুলতেই তাজ্জব বনে যান পুলিশ আধিকারিকরা। ভেতরে থরে থরে সাজানো ছিল ৫০০ টাকার বান্ডিল। আর্দ্রতা বা জলে যাতে নোটগুলি নষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্য প্রতিটি নোটের বান্ডিল অতি সতর্কতার সঙ্গে কালো পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
গ্রামে ঝামেলা থেকে ফাঁস হলো টাকার গোপন রহস্য!
কিন্তু কীভাবে মাটির নিচে লুকানো এই বিপুল টাকার সন্ধান পেল পুলিশ?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত একদিন আগে ওই গ্রামে একটি ছোটখাটো গোলমাল হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ জানতে পারে, গ্রামের ওই নির্দিষ্ট পরিবারটির কাছে কোটি কোটি টাকার হিসাব-বহির্ভূত কালো টাকা গচ্ছিত রয়েছে। সংসার চালানো এবং দৈনন্দিন খরচের জন্য তাঁরা মাটির তলা থেকে অল্প অল্প করে সেই টাকা বের করতেন।
পুনে ফেরত দুই ভাই ও হঠাৎ বড়লোক হওয়ার ধাঁধা
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়িটি এলাকার একটি যাদব পরিবারের। রাকেশ যাদব ও রাজেশ যাদব নামে দুই ভাই এতদিন মহারাষ্ট্রের পুনেতে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের লকডাউনের সময় তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, পুনে থেকে ফেরার পর থেকেই ওই দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রায় অভাবনীয় পরিবর্তন আসে। রাতারাতি তাঁরা বেশ কয়েক বিঘা জমি এবং একাধিক নতুন ট্রাক্টর কেনেন। সাধারণ কাজ করে কীভাবে তাঁদের এত বিপুল সম্পত্তি বাড়ল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগছিল।
আটক ১, আয়কর দফতরের প্রবেশের নির্দেশ
বর্তমানে ওই বাড়ির এক সদস্যকে আটক করে জেরা করছে পুলিশ। তবে পুলিশি প্রশ্নের মুখে সে নানাভাবে কথা ঘুরিয়ে উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে ইতিমধ্যেই আয়কর দফতর (Income Tax Department)-কে খবর দেওয়া হয়েছে। পুরো বাড়িটি সিল করে কড়া পুলিশি প্রহরায় রাখা হয়েছে। দুই ভাই পুনের যে সংস্থায় কাজ করতেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার আসল উৎসের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।