১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন! ইউনেস্কো দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা কার অ্যাকাউন্টে?

ইউনেস্কো কাণ্ড ও দুর্গাপুজোর অনুদানে কোটি টাকার দুর্নীতি! ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন
ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ভিড়ে ঠাসা আদালত কক্ষ থেকে বেরোনোর সময় প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখে উদ্বেগের ছাপ দেখা গেলেও, কাঠগড়ায় তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ও হালকা মেজাজেই ধরা দিয়েছেন।
স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢোকে টাকা! আদালতে বিস্ফোরক দাবি পুলিশের
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১-২২ সালে ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, যা সরাসরি ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ বিচারকের কাছে ১২ দিনের হেফাজতের আর্জি জানায়।
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা আদালতকে জানান:
দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া কোটি কোটি টাকার লাভের অংশ কার কার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে, তার একটি স্পষ্ট ধারণা পুলিশের হাতে এসেছে।
ইন্দ্রনীল সেনকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে পুরো সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন পুজো সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল। ইউনেস্কোর নাম কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলো, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘আমার কোনো দায় নেই!’ আদালতে যুক্তি ইন্দ্রনীলের
আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন সাবেক এই মন্ত্রী। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁর সওয়াল:
“আমি কীভাবে যুক্ত? ‘মাস আর্ট’ বা ‘থার্ড আই’-এর মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে আমার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। আমি কোনো পতেই ছিলাম না। আমার স্ত্রী বা অন্য কেউ সদস্য থাকলে তার দায় আমার ওপর চাপানো যায় না। আমি দুর্নীতির ব্যাপারে কিছুই জানি না।”
ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী আদালতে আরও জানান, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ইডি (ED)-র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হলেও সেখানে অপরাধের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ইউনেস্কো চুক্তি ও পুজো অনুদান নিয়ে তীব্র দ্বিমত
ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার নিয়ে আদালতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ হয়। লালবাজারের তরফে আগেই ইউনেস্কোকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাদের কোনো চুক্তি ছিল কি না। ইউনেস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো চুক্তি হয়নি।
এর জবাবে ইন্দ্রনীল সেন জানান, ২৪টি পুজো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সরাসরি ভূমিকা ছিল না এবং ২০২৫ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল। ফলে ২০২২ সালের টাকা তোলার অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক ঘটনাটির গভীরতা খতিয়ে দেখতে ইন্দ্রনীল সেনকে ১৩ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।