দীপাবলিতে বাজি ফাটানোর নতুন টাইম স্লট ঘোষণা! নিয়ম ভাঙলেই জেল? বড় নির্দেশিকা দিল নবান্ন!

আসন্ন দীপাবলি, কালীপুজো ও ছটপুজোর আনন্দমুখর মরশুমে পরিবেশ রক্ষা ও সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ ও নির্দেশিকা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ বাজি নিয়ন্ত্রণ ও উৎসবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়া নিয়মগুলির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা, ডিজিপি সিদ্ধীনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। প্রশাসনের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, উৎসবে মেতে ওঠার আগে আইন ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পরিবেশ দূষণ রোধ করতে সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ বাজি’ (Green Crackers) ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই দীপাবলির দিনগুলিতে শুধুমাত্র রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত—মাত্র এই দুই ঘণ্টাই বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছটপুজোর পবিত্র পুণ্যলগ্নে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। লোকালয়ের ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে বাজি বাজারগুলিকে সম্পূর্ণ ফাঁকা ও নিরাপদ জায়গায় বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহরের সমস্ত হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং বৃদ্ধাশ্রমের (Old Age Home) ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওই এলাকাগুলিকে কঠোরভাবে ‘সাইলেন্ট জোন’ বা নীরবতা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অবৈধ বাজি তৈরি, মজুতকরণ এবং ফাটানোর প্রবণতা রুখতে রাজ্যজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিজিপি সিদ্ধীনাথ গুপ্ত। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সমস্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ নাগরিকরা যাতে যেকোনো বাজি সংক্রান্ত বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দ্রুত জানাতে পারেন, তার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমের হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হবে। পাশাপাশি, উৎসবের আকাশে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রেও বড়সড় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। ফানুস বিক্রির ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, যে সমস্ত ব্যক্তি বা ক্লাব ফানুস ওড়াতে ইচ্ছুক, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে স্থানীয় দমকল বিভাগ এবং পুলিশের কাছ থেকে লিখিত আগাম অনুমতি নিতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চোরবাগানের একটি পুজোমণ্ডপে ঘটা অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার পর থেকে কালীপুজো, ছটপুজো থেকে শুরু করে জগদ্ধাত্রী পুজো এবং রাস উৎসবের প্রতিটি পদক্ষেপে নজিরবিহীন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে রাজ্য সরকার। উৎসবের এই দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শতভাগ সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে একাধিক সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি অলিগলি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমান এবং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলসহ রাজ্যের সমস্ত সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ঐতিহাসিক চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং শান্তিপুরের বিখ্যাত রাস উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল করে তুলতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।