একান্ন পেরোতেও রূপের জাদুতে বুঁদ নেটদুনিয়া! শিল্পা শেঠির গোপন ফিটনেস মন্ত্র জানলে চোখ কপালে উঠবে!

বলিউড ডিভা শিল্পা শেঠির বয়স ৫১ পেরিয়ে গেলেও তাঁর রূপ, লাবণ্য এবং তাক লাগানো ফিটনেস দেখে বয়সকে নেহাতই একটা সংখ্যা বলেই মনে হয়। নিজের চমৎকার শারীরিক গঠন এবং যোগব্যায়ামের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য গোটা বিনোদন দুনিয়ায় সুপরিচিত এই অভিনেত্রী। প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ভক্তদের সঙ্গে নতুন নতুন ফিটনেস রুটিন এবং শরীরচর্চার নান্দনিক ভিডিও শেয়ার করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি তিনি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ‘বল ওয়ার্কআউট’ চ্যালেঞ্জ ভক্তদের সামনে এনেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। এই বিশেষ ব্যায়াম পদ্ধতিটি কেবল শরীরকে নিখুঁতভাবে ফিট রাখাই নয়, বরং মানসিক একাগ্রতা ও শারীরিক ভারসাম্য অবিশ্বাস্য দ্রুততায় উন্নত করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।

সাধারণত জিমে মানুষ ভারী ওজন তোলা বা ব্যয়বহুল বিভিন্ন ব্যায়ামের যন্ত্র ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে শিল্পা শেঠির এই উদ্ভাবনী ‘বল ওয়ার্কআউট’ দেখিয়ে দেয় যে, একটি সাধারণ বল কীভাবে আপনার একঘেয়ে ফিটনেস রুটিনকে চরম আনন্দদায়ক ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে। এই ব্যায়ামের জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বা কোঅর্ডিনেশন এবং নিয়ন্ত্রিত ভারসাম্যের প্রয়োজন হয়, যার ফলে শরীরচর্চার পুরো সময়টায় আপনার মন পুরোপুরি সজাগ থাকে। আপনি যখন এমন কোনও ব্যায়াম বেছে নেন যার জন্য শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, তখন মন ও শরীর উভয়ই একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে দারুণ কিছু শারীরিক ও মানসিক সুফল পাওয়া যায়।

এই বিশেষ অনুশীলনের অন্যতম প্রধান গুণ হলো মানসিক মনোযোগের অভাবনীয় উন্নতি। এই ধরনের কার্যক্রমের সময় আপনাকে প্রতিটি নড়াচড়ার দিকে গভীর মনোযোগ দিতে হয়, যা মানসিক একাগ্রতাকে বহুলাংশে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি, হাত ও চোখের উন্নত সমন্বয় সাধিত হয় এবং স্থান বা পরিসরের মধ্যে শরীর কীভাবে নড়াচড়া করছে সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের সঠিক ভঙ্গি বা পোশ্চার গঠনে সাহায্য করে। আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত সহজ মনে হওয়া এই বল ব্যায়ামটি শরীরের কোর (core) বা মূল পেশি এবং স্থিতিশীলতার জন্য দায়ী পেশিগুলিকে ভীষণভাবে শক্তিশালী করে তোলে, যে অংশগুলি প্রচলিত জিম ওয়ার্কআউটের ক্ষেত্রে প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়।

ছোট বল ব্যবহার করে করা এই ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, যেকোনো বয়সের মানুষ খুব সহজেই এগুলিকে তাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবাই এই ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের নমনীয়তা ও শক্তি বহুগুণ বাড়াতে পারেন, যেখানে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের ওপর কোনো অতিরিক্ত ক্ষতিকারক চাপও পড়ে না। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও রিফ্লেক্স দুর্বল হতে শুরু করে, কিন্তু এই ধরনের অভিনব ব্যায়াম আমাদের পেশির ভিতরের নিউরো-মাসকুলার সংযোগগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলে। শিল্পা শেঠির ফিটনেস রুটিন আমাদের এটাই শিখিয়ে দেয় যে, সুস্থ থাকার জন্য সর্বদা ব্যয়বহুল জিম সরঞ্জাম বা কঠোর পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।