বিদেশের আদলে তিলোত্তমায় গড়ে উঠছে তিনটি অত্যাধুনিক ‘ফুড স্ট্রিট’! কী থাকছে এই মেগা প্রজেক্টে?

বিদেশের উন্নত শহরের স্টাইলে এবার কলকাতার তিনটি ভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ‘ফুড স্ট্রিট’। রাজ্য সরকারের এই অভিনব ও যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু স্ট্রিট ফুডকে আন্তর্জাতিক মানের ফেসিলিটিতে রূপান্তর করতে এবং হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসন নিশ্চিত করতেই এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কলকাতার জাদুকরি স্বাদের খাবার বিশ্বমানের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করাতে এই বিশেষ স্ট্রিট ফুড হাবগুলি শহরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কলকাতার মোট তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে এই ফুড স্ট্রিট গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে একটি তৈরি হচ্ছে টালা এলাকায়, দ্বিতীয়টি বিবেকানন্দ পার্কে এবং তৃতীয়টি ইস্টার্ন বাইপাসের কাছাকাছি সরোবরের পাশে। এই সমস্ত স্টলগুলিতে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) অনুমোদিত খাবার বিক্রি করা হবে। স্টল বন্টন ও ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ রাখতে একটি বিশেষ এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দূরে সরিয়ে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে প্রকৃত ও পুরনো ব্যবসায়ীদের হাতে স্টল তুলে দেওয়া। এছাড়া প্রতিটি স্টলে যাতে আলাদা এবং বৈচিত্র্যময় খাবার পাওয়া যায়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে, যাতে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন।

হকার উচ্ছেদ বা জবরদখল সংক্রান্ত নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক উড়িয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ফুটপাথ মূলত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক শহরে হাঁটার প্রশস্ত রাস্তা থাকে, কলকাতার ক্ষেত্রেও জবরদখল হটিয়ে ফুটপাথ খালি রাখতে হবে। তবে হকারদের পেটে লাথি মেরে নয়, বরং তাদের সঠিক উপায়ে সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসন বা রিলোকেট করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে এই দোকানগুলির একটি নির্দিষ্ট ও সুদৃশ্য একরূপ (Uniform Look) থাকবে বলেও তিনি জানান। এমনকি চিনের ট্যাংরা এলাকার আদলে কলকাতার ফুড হাবকে সাজিয়ে তুলতে হংকং ও চিনের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, পরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে লন্ডন শহরের আদলে একটিমাত্র টিকিটেই সমস্ত রকমের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা পরিবহন পরিষেবা ব্যবহারের এক দুর্দান্ত ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এই অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্রিটিশ কনস্যুলেট এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মন্ত্রী। নিজের ব্যক্তিগত খরচে লন্ডন সফরকালে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে লগ্নি করতে ইচ্ছুক প্রায় কুড়িজন বিশ্বমানের বিনিয়োগকারীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সবমিলিয়ে, কলকাতার পরিকাঠামো, হকার পুনর্বাসন এবং আধুনিক ফুড হাবের এই যুগান্তকারী রূপায়ণ বাংলার অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।