‘টাকায় মমতার ভাগ থাকতে পারে!’ ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হতেই শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

প্রাক্তন মন্ত্রী ও খ্যাতনামা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার ইডি দফতর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই কলকাতা পুলিশের ডিডি স্পেশাল সেল তাঁকে গ্রেফতার করে। বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লালবাজারে আনার পর থেকেই ‘মাসআর্ট’ কোম্পানির কর্মকাণ্ড এবং দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি নিয়ে তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

আজ পুলিশ সূত্রে এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। লালবাজারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিশ্ব ঐতিহ্য সংস্থা ‘ইউনেস্কো’ (UNESCO)-কে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইন্দ্রনীলের সংস্থার সঙ্গে আদতে ইউনেস্কোর কোনো বৈধ চুক্তি হয়েছিল কি না, চিঠিতে সরাসরি তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনেস্কোর ঐতিহ্যমণ্ডিত নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বিক্রি করে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। এই মেগা আর্থিক তছরুপের মামলায় ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও মধুছন্দা সেন, ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং শান্তনু মৈত্রের বিরুদ্ধে গম্ভীর অভিযোগ রয়েছে।

শুধু দুর্গাপুজোর পাস জালিয়াতিই নয়, রাজ্য পুজো কার্নিভাল ও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাতেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঝুলছে এই প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এদিকে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে পৌঁছেছে। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছেন, “তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে।” পাশাপাশি তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, এই বিশাল অর্থ কেলেঙ্কারিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রত্যক্ষ মদত বা ভাগ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে লালবাজারের চাঞ্চল্যকর তদন্ত এখন কোন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।