দীর্ঘ ১১ মাসের আঁধার কেটে মিলল আলোর দিশা! দীপাবলির আগেই অলৌকিক পরিবর্তন ডুয়ার্সের এই চা বাগানে

দীর্ঘ ১১ মাসের অনিশ্চয়তা, আর্থিক অনটন এবং প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামের চরম অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে ডুয়ার্সে ফিরল খুশির হাওয়া। বানারহাট ব্লকের বিখ্যাত আমবাড়ি চা বাগানের মূল ফটক খুলতেই সেখানে ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আনন্দের জোয়ার। উৎসবের মরশুমে, বিশেষ করে দীপাবলির ঠিক মুখেই রুজিরুটি ফিরে পাওয়ায় কান্না আর উল্লাসে ভেঙে পড়েন চা শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল থেকেই পুরো বাগান এলাকা জুড়ে কাজের ব্যস্ততা আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

গত ৩ ডিসেম্বর কাজ সংক্রান্ত এক আকস্মিক বিবাদের জেরে রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হয় আমবাড়ি চা বাগানটি। তারপর থেকেই নেমে আসে অন্ধকার। পরিবার চালানোর জন্য অনেক শ্রমিককে দূর-দূরান্তের অন্য চা বাগানে পাড়ি দিতে হয়েছিল। তবে শারীরিকভাবে অক্ষম বা বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রমিকদের জীবন কাটে চরম অসহায়তায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, সামান্য পানীয় জলের প্রয়োজনেও প্রতিবেশীদের মুখাপেক্ষী হয়ে অন্য বাগানে যেতে হতো।

বাগান বন্ধের এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকারের ‘ফৌলাই’ প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত ১৩,৫০০ টাকা, বাগানের নির্ধারিত ৮.৩৩ শতাংশ বোনাস, এক মাসের বকেয়া বেতন এবং বাৎসরিক ছুটির ভাতা শ্রমিক পরিবারগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে এই টাকাই ছিল একমাত্র সম্বল। সেই চরম সংকটে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বাগানের মোট ২ হাজার স্থায়ী, অস্থায়ী ও স্টাফ পরিবারের মধ্যে প্রথম দিনেই কাজে যোগ দেন প্রায় ৬০০ জন শ্রমিক। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে বাগান বন্ধ না করে যেন আলোচনার টেবিলেই সমাধান সূত্র খোঁজা হয়।